এনআরবিসি ব্যাংকের শেয়ার জালিয়াতির তদন্ত করবে বিএসইসি

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত এনআরবি কমার্শিয়াল (এনআরবিসি) ব্যাংকের একটি জালিয়াতির তদন্ত করবে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। এর জন্য তিন সদস্যের একটি কমিটি করা হয়েছে।

সূত্র মতে, বিএসইসির পরিচালক মো. মাহমুদুল হকের সই করা চিঠিতে কমিটিকে আগামী ৬০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। কমিটির সদস্যরা হলেন- অতিরিক্ত পরিচালক মুহাম্মদ জিয়াউর রহমান, সহকারী পরিচালক মেহেদি হাসান রনি ও মো. হাসান।

এদিকে গঠিত এই কমিটি আগামী ১৩ জানুয়ারী সাত উদ্যোক্তা-শেয়ারহোল্ডারকে শুনানীতে ডেকেছে। ওই দিন বেলা ২.৩০ এ বিএসইসি গঠিত তদন্ত কমিটির সামনে উপস্থিত হতে বলা হয়েছে।

সূত্র অনুসারে, মানি লন্ডারিংয়ের অপরাধে বাংলাদেশ ব্যাংক এনআরবিসি ব্যাংকের উদ্যোক্তা-শেয়াররহোল্ডার এমএ মান্নানের শেয়ার বাজেয়াপ্ত করেছিল। বিধি অনুসারে, বাজেয়াপ্ত শেয়ার কেনা-বেচার কোনো সুযোগ নেই। কিন্তু আব্দুল মান্নানের সঙ্গে যোগসাজশ করে ব্যাংকটির পর্ষদের অনুমতি ছাড়াই ওই শেয়ার ‘ব্লক মার্কেটে’র মাধ্যমে বাজারে বিক্রি করে দেওয়া হয়। আর বেআইনীভাবে এসব শেয়ার কিনে নেয় ব্যাংকটির বর্তমান চেয়ারম্যান পারভেজ তমাল, নির্বাহী কমিটির সাবেক চেয়ারম্যান আদনান ইমাম ও মার্কেন্টাইল ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান শহীদুল আহসানের মনোনীত ব্যক্তিরা। বিষয়টি তদন্তে গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর বিএসইসি একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। ওই তদন্তের প্রয়োজনে ব্যাংকটির ৭ উদ্যোক্তা-শেয়ারহোল্ডারকে শুনানীতে ডাকা হয়েছে।

যাদেরকে শুনানীতে ডাকা হয়েছে, তারা হলেন- এনআরবিসি ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার ফরাসত আলী, ড. তৌফিক রহমান চৌধুরী, মোঃ এনায়েত হোসেন, সারওয়ার জামান চৌধুরী, ইজাহারুল ইসলাম হালদার, শাখাওয়াত আলী, তোহেল আহমেদ ও সেলিনা ইসলাম।

তদন্ত কমিটি গঠন সংক্রান্ত বিএসইসির প্রজ্ঞাপন অনুসারে, মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে ২০১৬ সালের নভেম্বর মাসে বাংলাদেশ ব্যাংক এনআরবিসি ব্যাংকের উদ্যোক্তা-শেয়ারহোল্ডার এমএ মান্নানের ৪ কোটি ৭০ লাখ ১ হাজার ৮৮৬টি শেয়ার বাজেয়াপ্ত করে। বাংলাদেশ ব্যাংকের এ সংক্রান্ত তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, এনআরবিসি ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাকালে এমএ মান্নানের নামে যে শেয়ার বরাদ্দ করা হয়, তার মূল্য তিনি পরিশোধ করেননি। অন্য এক ব্যক্তি তার হয়ে টাকা জমা দেন। আবার পরবর্তীকালে ব্যাংকটি যে লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে, ওই লভ্যাংশের অর্থও এমএ মান্নানের একাউন্টে জমা হয় নি। অন্য এক ব্যক্তি তার হয়ে ওই টাকা তুলে নিয়েছেন। পুরো বিষয়টি সন্দেহজনক এবং মানি লন্ডারিংয়ের ইঙ্গিতপূর্ণ।

আরো