রিয়াজ ইসলামের বিরুদ্ধে বিএসইসির চেয়ারম্যানের কাছে সাংবাদিকদের অভিযোগ

পুঁজিবাজারের সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান এলআর গ্লোবাল বাংলাদেশ অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি লিমিটেডের প্রধান বিনিয়োগ কর্মকর্তা (সিআইও) রিয়াজ ইসলামের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ এনেছেন সাংবাদিকরা। রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর গঠিত অন্তরবর্তী সরকার এবং বর্তমান পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ না করাসহ বিভিন্ন অজুহাতে এর সাংবাদিকদের বেতন ও অন্যান্য ভাতা আটকে রাখা হয়েছে।

নিজেদের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান হিসেবে দাবি করলেও বকেয়া বেতন চাইতে গেলে সাংবাদিকদের বিভিন্নভাবে হুমকি দিচ্ছে এলআর গ্লোবাল বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ। রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় নানা অককর্মে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে রিয়াজ ইসলামের বিরুদ্ধে।

এরই ধরাবাহিকতায় গত ১৩ আগস্ট (বৃহস্পতিবার) বিএসইসি চেয়ারম্যানের কাছে রিয়াজ ইসলামের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ দাখিল করেছেন এর কর্মরত সাংবাদিকরা। একইসঙ্গে গত ১৭ আগস্ট (রবিবার) অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা বরাবর সাংবাদিকদের হুমকি দেওয়ার বিষয়ে অভিযোগ দাখিল করা হয়।

এদিকে গত ১৫ জুলাই বিএসইসি’র ৯৬৩তম কমিশন সভায়, এল আর গ্লোবাল বাংলাদেশ এসেট ম্যানেজমেন্টের প্রধান বিনিয়োগ কর্মকর্তা রিয়াজ ইসলামকে বিধিবহির্ভূতভাবে বিনিয়োগকৃত ৪৯ কোটি টাকা ফেরত প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিনিয়োগকৃত অর্থ সুদসহ ফেরত প্রদানে ব্যার্থ হলে ৬০ কোটি টাকা জরিমানা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। প্রতিষ্ঠানটির পরিচালিত ৬টি মিউচুয়াল ফান্ড থেকে একটি অনলাইন নিউজ পোর্টালে ১০০ টাকা মূল্যের অবৈধ শেয়ার প্রতিটি ১২ হাজার ৫০০ টাকা দরে মোট ৪৯ কোটি টাকা বিধিবহির্ভূতভাবে বিনিয়োগ করা হয়।

বিএসইসিতে দাখিল করা অভিযোগে উল্লেখ্য করা হয়, রিয়াজ ইসলাম, এল আর গ্লোবাল বাংলাদেশ এসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও মহাপরিচালক। এল আর গ্লোবালের একটি অঙ্গপ্রতিষ্ঠান, যা রিয়াজ ইসলামের প্রত্যক্ষ নির্দেশনাতেই পরিচালিত হয়ে থাকে। উক্ত পত্রিকার সকল কার্যক্রমের ব্যয়, যেমন- অপারেশনাল খরচ ও কর্মীদের বেতন-ভাতা এল আর গ্লোবাল থেকেই বহন করা হয়। গত বছরের সেপ্টেম্বর মাস থেকে এল আর গ্লোবালের ব্যাংক হিসাব ৯ মাসের জন্য ফ্রিজ (অবরুদ্ধ) থাকার কারণে অনলাইন নিউজ পোর্টালটিতে কর্মরত সাংবাদিকদের বেতন দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন রিয়াজ ইসলাম। সাংবাদিকরা এর ব্যাপারে সিদ্ধান্ত জানতে চাইলে রিয়াজ ইসলাম জানান, সাংবাদিকরা যেন কাজ বন্ধ না রাখে এবং -কে সচল রাখা হয়। ফলে রিয়াজ ইসলামের অনুরোধে সাংবাদিকরা বিনা পারিশ্রমিকে কাজ অব্যাহত রাখেন। রিয়াজ ইসলামের নির্দেশ মোতাবেক বর্তমানে কোম্পানিটির হেড অব লিগ্যাল ব্যারিস্টার মুহাম্মদ ওমর সোয়েব চৌধুরী সাংবাদিকদের আশ্বস্ত করেন যে, এল আর গ্লোবালের ব্যাংক হিসাব আনফ্রিজ হওয়ার সাথে সাথে সাংবাদিকদের সকল বকেয়া পরিশোধ করা হবে। সম্প্রতি এল আর গ্লোবালের ব্যাংক হিসাব আনফ্রিজ (অবরুদ্ধ মুক্ত) হওয়ার পরেও তারা সাংবাদিকদের বিষয়টি অবহিত করা হয়নি। এমনকি বিগত ১১ মাসের সাংবাদিকদের বকেয়া বেতন, বোনাস, ম্যাগাজিন ও বিজ্ঞাপন বাবদ প্রাপ্য অর্থ এখনো পরিশোধ করেনি।

অভিযোগে আরো উল্লেখ্য করা হয়, সর্বশেষ, গত ৬ আগস্ট গুলশান-২ এ অবস্থিত এল আর গ্লোবালের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে অবসরপ্রাপ্ত ডিআইজি আবুল কালাম আজাদ, ব্যারিস্টার মো. ওমর সোয়েব চৌধুরী এবং চিফ ফাইনান্সিয়াল অফিসার সৈয়দ কামরুল হুদা সাংবাদিকদের বকেয়া পরিশোধ করার লক্ষ্যে রিয়াজ ইসলামের সাথে আলোচনা করবেন বলে পুনরায় আশ্বাস দেন। কিন্তু পরবর্তীতে তারা সাংবাদিকদের জানান যে, রিয়াজ ইসলাম তাদের এই বিষয়ে কথা বলতে নিষেধ করেছেন, যার ফলে তারা সাংবাদিকদের বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধ করতে পারছেন না।

এল আর গ্লোবাল বাংলাদেশ এসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি যেহেতু বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) অনুমোদিত ও নিবন্ধিত একটি সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান। তাই বেতন, বোনাস ও অন্যান্য সকল বকেয়া অর্থ দ্রুত পরিশোধের ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে- বিএসইসি চেয়ারম্যানের কাছে সহযোগিতা চেয়েছেন এর সাংবাদিকরা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে এ কর্মরত স্টফ রিপোর্টার সুদীপ দেবনাথ সাংবাদিকদের বলেন, রিয়াজ ইসলাম আশ্বাস দিয়েছিলেন যে, ব্যাংক হিসাব আনফ্রিজ হলে আমাদের বকেয়া বেতন ও বোনাস পরিশোধ করা হবে। কিন্তু ব্যাংক হিসাব আনফ্রিজ হওয়ার পরেও তিনি আমাদের বেতনসহ অন্যান্য ভাতা পরিশোধ করছেন না।

এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এল এল গ্লোবালের একজন কর্মকর্তা জানান, গত বছরের ১৩ জুন দৈনিক সমকালের ‘ওয়াল স্ট্রিট খেয়ে রিয়াজ এখন মতিঝিলপাড়ায়’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রচারের পর থেকে রিয়াজ ইসলাম আতঙ্কিত ছিলেন। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের আগেই তিনি আমেরিকায় চলে যান।

আরো