কুষ্টিয়ার মোকামে বেড়েছে সব ধরনের চালের দাম, ভোক্তাদের উদ্বেগ

দেশের অন্যতম বৃহৎ চালের মোকাম কুষ্টিয়ার খাজানগরে সব ধরনের চালের দাম কেজিতে বেড়েছে। সরু চালের জন্য পরিচিত এই মোকামে মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে মাঝারি ও মোটা চালের বাজারেও। বছরের শুরুতেই চালের এমন ঊর্ধ্বগতি ভোক্তাদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দ্রুত বাজার নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সাধারণ মানুষ।

গত কয়েক দিন ধরে কুষ্টিয়া পৌর বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রায় সব ধরনের চালের দাম কেজিতে ২ থেকে ৩ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বাসমতি চাল ৯২ টাকা থেকে বেড়ে ৯৪ টাকা, মিনিকেট ৭৪ টাকা থেকে ৭৭ টাকা, কাজললতা ৬৬ টাকা থেকে বেড়ে ৬৮ টাকা, আটাশ চাল ৫৮ টাকা থেকে ৬০ টাকা এবং মোটা চাল ৫০ টাকা থেকে বেড়ে ৫২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

চালের দাম বৃদ্ধির ফলে ভোক্তা পর্যায়ে অসন্তোষ বাড়লেও খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, মিল পর্যায়ে দাম বাড়ায় তারা বাধ্য হয়ে বেশি দামে বিক্রি করছেন। কুষ্টিয়া পৌর বাজারের চাল বিক্রেতা রিপন হোসেন বলেন, দীর্ঘদিন চালের বাজার স্থিতিশীল ছিল এবং এখনো বাজারে চালের কোনো সংকট নেই। তবে মিলারদের দাবি, ধানের দাম মণপ্রতি ১৫০ থেকে ২০০ টাকা বেড়েছে। সে কারণে নতুন চালের দাম কিছুটা বেশি পড়ছে।

আরেক বিক্রেতা রঞ্জুর হোসেন নিশান বলেন, চাল কেজিতে ২ টাকা বাড়লেও ক্রেতারা দোকানিদের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। অথচ মিলগেট থেকেই বেশি দামে চাল কিনতে হচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, ভরা মৌসুমেও মিলাররা ধানের দাম বৃদ্ধির অজুহাতে চালের দাম বাড়াচ্ছেন। বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারের দ্রুত হস্তক্ষেপ এবং প্রয়োজনে চাল আমদানির দাবি জানান তিনি।

এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ

চালের দাম বৃদ্ধিতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ ক্রেতারাও। রিকশাচালক নাজিম উদ্দিন বলেন, “এমনিতেই নিত্যপণ্যের দাম বেশি, তার ওপর চালের দাম বাড়ায় সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।” বাজার করতে আসা নাসরিন সুলতানা বলেন, “চাল আমাদের প্রধান খাদ্য। আয় না বাড়লেও চালের দাম বাড়ছে, যা নিম্ন ও মধ্যবিত্তদের জন্য বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।”

এদিকে চালকল মালিকরা বলছেন, ধানের দাম বৃদ্ধির কারণেই মোকামে চালের দাম বেড়েছে। কুষ্টিয়া জেলা চালকল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদিন প্রধান জানান, মিনিকেট ধানের দাম মণপ্রতি ১২০ থেকে ১৩০ টাকা বেড়েছে। সে অনুযায়ী চালের দাম কেজিতে প্রায় ২ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। খাদ্য অধিদপ্তরে একসঙ্গে বড় পরিমাণ চাল সরবরাহের কারণে মিলগুলোর গুদাম খালি হয়ে যায়, ফলে ধান কিনতে প্রতিযোগিতা বাড়ে এবং কৃষকরাও দাম বাড়িয়ে দেন।

তিনি দাবি করেন, জেলা প্রশাসকের সঙ্গে বৈঠকের পর সিদ্ধান্ত হয়েছে রমজানের আগে চালের দাম আর বাড়বে না। পাশাপাশি সরকার যদি মিনিকেট ও বাসমতি চাল আমদানির উদ্যোগ নেয়, তাহলে বাজার আরও স্থিতিশীল থাকবে।

কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক মো. ইকবাল হোসেন বলেন, দেশের চালের বাজারে কুষ্টিয়ার বড় ভূমিকা রয়েছে। তাই বিষয়টি নিয়ে প্রশাসন তৎপর রয়েছে। চালকল মালিকদের সঙ্গে বৈঠকে স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে—কোনোভাবেই চালের দাম বাড়ানো যাবে না। ধানের দাম বৃদ্ধির বিষয়ে নওগাঁ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে এবং প্রয়োজন হলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

আরো