ডিএসইর খাতভিত্তিক শ্রেণিবিন্যাস আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার আহ্বান ডিবিএর

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর খাতভিত্তিক শ্রেণিবিন্যাস আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার আহ্বান জানিয়েছে ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিবিএ)।

বুধবার (২১ জানুয়ারি) ডিবিএ সভাপতি সাইফুল ইসলাম বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান (সিনিয়র সচিব) খন্দকার রাশেদ মাকসুদের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে এ আহ্বান জানান।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ডিএসই বর্তমানে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর জন্য যে ২২টি খাতভিত্তিক শ্রেণিবিন্যাস অনুসরণ করছে—যার মধ্যে সরকারি ও কর্পোরেট বন্ড এবং মিউচুয়াল ফান্ড অন্তর্ভুক্ত—তা বহু বছর ধরে অপরিবর্তিত রয়েছে এবং বর্তমান বৈশ্বিক পুঁজিবাজার বাস্তবতার সঙ্গে আর সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ

সূচকের পতনে লেনদেন ৪৮৬ কোটি টাকার

শীর্ষ ৩০ ব্রোকারের সাথে ডিএসই’র বৈঠক মঙ্গলবার

সূচকের পতনে ১ ঘণ্টায় লেনদেন ১১৫ কোটি টাকার

ডিবিএ সভাপতি বলেন, বিশ্বের অধিকাংশ পুঁজিবাজার বর্তমানে গ্লোবাল ইন্ডাস্ট্রি ক্লাসিফিকেশন স্ট্যান্ডার্ড (GICS) অথবা ইন্ডাস্ট্রি ক্লাসিফিকেশন বেঞ্চমার্ক (ICB) অনুসরণ করছে। এসব মানদণ্ড খাতভিত্তিক বাজার বিশ্লেষণকে আরও স্বচ্ছ, তুলনাযোগ্য ও কার্যকর করে তোলে।

চিঠিতে বিদ্যমান শ্রেণিবিন্যাসের কিছু অসংগতি তুলে ধরা হয়। উদাহরণ হিসেবে বলা হয়, ম্যারিকো বাংলাদেশ লিমিটেড বর্তমানে ‘ফার্মাসিউটিক্যালস অ্যান্ড কেমিক্যালস’ খাতে এবং ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ ‘ফুড অ্যান্ড অ্যালাইড’ খাতে তালিকাভুক্ত রয়েছে। অথচ আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী উভয় প্রতিষ্ঠানই ‘কনজ্যুমার স্ট্যাপলস’ খাতভুক্ত হওয়া যৌক্তিক। একইভাবে ওয়ালটন, সিঙ্গার, বাটা ও এপেক্সের মতো কোম্পানিগুলোকে ‘কনজ্যুমার ডিসক্রিশনারি’ খাতে অন্তর্ভুক্ত করলে তাদের প্রকৃত ব্যবসায়িক বৈশিষ্ট্য আরও যথাযথভাবে প্রতিফলিত হবে।

ডিবিএ মনে করে, খাতভিত্তিক পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ অর্থনৈতিক প্রবণতা, ভোক্তা আচরণ ও আয়ের প্রবৃদ্ধি বুঝতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। একটি পুরোনো ও অসামঞ্জস্যপূর্ণ শ্রেণিবিন্যাস কাঠামো এসব বিশ্লেষণের কার্যকারিতা কমিয়ে দেয়।
চিঠিতে আরও বলা হয়, আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত খাতভিত্তিক শ্রেণিবিন্যাস গ্রহণ করা হলে বাজারের স্বচ্ছতা বাড়বে, বৈশ্বিক বাজারের সঙ্গে তুলনাযোগ্যতা তৈরি হবে এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধি পাবে। একই সঙ্গে দেশের পুঁজিবাজার একটি শক্তিশালী অর্থনৈতিক সূচক হিসেবে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে।

ডিবিএ সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে ডিএসইর খাতভিত্তিক শ্রেণিবিন্যাস সংস্কারে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের জন্য বিএসইসি’র প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। সংগঠনটি আশা প্রকাশ করেছে, এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশের পুঁজিবাজারের প্রতি দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বিশ্বাসযোগ্যতা, আস্থা ও বৈশ্বিক সংযুক্তি আরও সুদৃঢ় হবে।

[atn_photocard]
আরো