হেয়ারকাট প্রত্যাহারের দাবিতে গভর্নরের বিরুদ্ধে আমানতকারীদের সংবাদ সম্মেলন

আমানতকারীদের ‘দুষ্কৃতিকারী’ আখ্যা দেওয়ার অভিযোগ তুলে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছেন সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীরা।

রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনে তারা ব্যাংকের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং আমানত ফেরত না পাওয়ায় গভর্নরের পদত্যাগ দাবি করেন।

সংবাদ সম্মেলনে আমানতকারীদের ওপর আরোপিত হেয়ারকাট সিদ্ধান্তকে ‘চরম অন্যায়’ উল্লেখ করে তা অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে আমানতকারীদের ‘দুষ্কৃতিকারী’ হিসেবে চিহ্নিত করার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বক্তারা বলেন, এ ধরনের বক্তব্য ব্যাংকিং খাতে সাধারণ মানুষের আস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন করবে।

বাংলাদেশ ভুক্তভোগী ব্যাংক আমানতকারী অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের প্রতিনিধি জাহাঙ্গীর হোসেন লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ, মোহাম্মদ আজম, খালেদ মোশাররফ, নওশিন জাহান, তানভীর আহমেদ চৌধুরীসহ অর্ধশতাধিক ভুক্তভোগী আমানতকারী।

এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ

লিখিত বক্তব্যে জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, গত ২১ জানুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংকের জারি করা প্রজ্ঞাপন আমানতকারীদের সঙ্গে ব্যাংকের বিদ্যমান লিখিত ও অলিখিত চুক্তির সরাসরি লঙ্ঘন। তিনি অভিযোগ করেন, ২০২৪ ও ২০২৫ সালের আমানতের বিপরীতে মাত্র ৪ শতাংশ মুনাফা নির্ধারণের সিদ্ধান্ত পশ্চাৎমুখী এবং আমানতকারীদের ন্যায্য অধিকার কেড়ে নেওয়ার শামিল।

বক্তারা বলেন, হেয়ারকাট সিদ্ধান্ত শুধু সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি পুরো ব্যাংকিং খাতের জন্য একটি বিপজ্জনক নজির। আজ একটি ব্যাংকে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে ভবিষ্যতে অন্যান্য ব্যাংকেও একই ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে, যা ব্যাংকিং ব্যবস্থায় বড় ধরনের আস্থার সংকট তৈরি করবে।

শরিয়াহ নীতির প্রসঙ্গ তুলে বক্তারা বলেন, ব্যাংকের অবহেলা, অসতর্কতা কিংবা দুর্নীতির কারণে সৃষ্ট লোকসানের দায় কোনোভাবেই আমানতকারীদের ওপর চাপানো যায় না। তাদের মতে, হেয়ারকাট আরোপ শরিয়াহবিরোধী এবং আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং নীতিমালার সঙ্গেও সাংঘর্ষিক।

সংবাদ সম্মেলনে আমানতকারীরা তাদের জীবনযাত্রার ওপর এই সিদ্ধান্তের বিরূপ প্রভাবের কথাও তুলে ধরেন। তারা জানান, শারীরিক ও মানসিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, অবসরপ্রাপ্ত মানুষ, প্রবাসী পরিবার, পেনশননির্ভর নারী ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা এই মুনাফার ওপর নির্ভর করেই জীবন পরিচালনা করেন। হঠাৎ করে দুই বছরের আয় কেটে নেওয়ায় অনেক পরিবার চরম সংকটে পড়েছে বলে দাবি করেন তারা।

[atn_photocard]
আরো