তিন নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠান ও চার নিরীক্ষকের বিরুদ্ধে বিএসইসির নিষেধাজ্ঞা

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদনে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগে তিনটি নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট চারজন নিরীক্ষকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

কমিশনের একাধিক সভায় গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাদের নির্দিষ্ট সময়ের জন্য তালিকাভুক্ত কোম্পানির নিরীক্ষা কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে এবং বিএসইসির নিরীক্ষক প্যানেলের বাইরে থাকায় দুই প্রতিষ্ঠানকে প্যানেলভুক্তির অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছে।

শাস্তির আওতায় আসা তিন নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠান হলো মাহফেল হক অ্যান্ড কোম্পানি, আতা খান অ্যান্ড কোম্পানি এবং সিরাজ খান বসাক অ্যান্ড কোম্পানি চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস।

রিং শাইন নিরীক্ষায় অনিয়ম মাহফেল হক অ্যান্ড কোম্পানির

রিং শাইন টেক্সটাইলস লিমিটেডের ৩০ জুন ২০১৮ সমাপ্ত বছরের আর্থিক প্রতিবেদন নিরীক্ষা করেছিল মাহফেল হক অ্যান্ড কোম্পানি চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস। ওই নিরীক্ষার এনগেজমেন্ট পার্টনার ছিলেন মো. আব্দুস সাত্তার।

বিএসইসির অনুসন্ধানে কোম্পানির আর্থিক বিবরণীতে গুরুতর অনিয়ম ও অসঙ্গতি পাওয়া যায়। বিশেষ করে নন-কারেন্ট অ্যাসেটস, কারেন্ট অ্যাসেটস, শেয়ার ক্যাপিটাল, শেয়ার মানি ডিপোজিট, রিটেইন্ড আর্নিংস, কারেন্ট লাইয়াবিলিটিজ, গ্রস প্রফিট, নিট প্রফিট আফটার ট্যাক্স এবং বিভিন্ন ক্যাশ ফ্লো আইটেমে অসঙ্গতি শনাক্ত হয়।

কমিশনের অনুসন্ধানে আরও দেখা যায়—পর্যাপ্ত ও উপযুক্ত অডিট প্রমাণ সংগ্রহ ছাড়াই আন-মডিফাইড অডিট অপিনিয়ন দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নিরীক্ষা কার্যক্রমে ইন্টারন্যাশনাল ফিনান্সিয়াল রিপোর্টিং স্ট্যান্ডার্ড (আইএফআরএস) ও ইন্টারন্যাশনাল অ্যাকাউন্টিং স্ট্যান্ডার্ডের (আইএএস) এর পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়নি। এছাড়াও নিরীক্ষা প্রক্রিয়ায় অপর্যাপ্ততা ও অদক্ষতার পাশাপাশি সিকিউরিটিজ আইন অনুসরণ করা হয়নি।

এসকল কারণে মাহফেল হক অ্যান্ড কোম্পানিকে ৩ বছর তালিকাভুক্ত কোম্পানির নিরীক্ষা কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির পার্টনার মো. আব্দুস সাত্তারকেও ৫ বছর অডিট কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।

এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ

নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠানটি ২০১৮ সালে ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের নিরীক্ষাও করেছিল। এনগেজমেন্ট পার্টনার ছিলেন মো. আবু কায়সার। এই নিরীক্ষাতেও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটিকে ১ বছরের এবং এনগেজমেন্ট পার্টনার মো. আবু কায়সারকে সকল ধরণের তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানের নিরীক্ষা কার্যক্রমে ২ বছরের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।

আতা খান অ্যান্ড কোম্পানি

রিং শাইন টেক্সটাইলসের ২০১৯ সালের নিরীক্ষা করে আতা খান অ্যান্ড কোম্পানি চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস। এনগেজমেন্ট পার্টনার ছিলেন মকবুল আহমেদ। তিনি বিএসইসির অডিটর প্যানেলে তালিকাভুক্ত ছিলেন না।

বিএসইসির অনুসন্ধানে দেখা যায়—পর্যাপ্ত নিরীক্ষা প্রমাণ ছাড়া আন-মডিফাইড অপিনিয়ন দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আইএফআরএস ও আইএএস অনুসরণ করা হয়নি। নিরীক্ষা প্রতিবেদনে কোম্পানির বস্তুনিষ্ঠ ও নিরপেক্ষ চিত্র নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটি ৩ বছর বিএসইসি অডিট প্যানেলে অন্তর্ভুক্ত হতে পারবে না। এছাড়া মকবুল আহমেদ ৫ বছর বিএসইসির প্যানেলভুক্ত হতে পারবে না।

শিরাজ খান বসাক অ্যান্ড কোম্পানি

রিং শাইন টেক্সটাইলসের ২০২০ সালের অডিট করে শিরাজ খান বসাক অ্যান্ড কোম্পানি। এনগেজমেন্ট পার্টনার ছিলেন রমেন্দ্র নাথ বসাক। একই অভিযোগে শিরাজ খান বসাক অ্যান্ড কোম্পানিকে ৩ বছর বিএসইসি প্যানেলে তালিকাভুক্তিতে অযোগ্য ঘোষণা করা হয়। আর প্রতিষ্ঠানটির পার্টনার রমেন্দ্র নাথ বসাক ৫ বছর প্যানেলভুক্ত হতে পারবেন না।

বিএসইসি জানিয়েছে, উল্লিখিত অনিয়মের কারণে সংশ্লিষ্ট নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্ভরযোগ্য নয় বলে বিবেচনা করা হয়েছে। তবে আদেশ জারির আগে যেসব তালিকাভুক্ত কোম্পানির চলমান নিরীক্ষা কার্যক্রমে প্রতিষ্ঠানগুলো যুক্ত ছিল, সেগুলো সম্পন্ন করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে বিএসইসির পরিচালক ও মুখপাত্র আবুল কালাম বলেন, নিরীক্ষায় অনিয়মের কারণে অডিট ফার্মগুলোকে ৩ বছরের জন্য নিরীক্ষা কার্যক্রম থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে আর এনগেজমেন্ট পার্টনারকে ৫ বছরের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে। দুটি ফার্ম আতা খান এবং সিরাজ খান বসাক বিএসইসির তালিকাভুক্ত না। এজন্য তাদেরকে ভবিষ্যতেও তালিকাভুক্ত হওয়া থেকে বিরত রাখা হয়েছে।

আরো