সাউথইস্ট ব্যাংক ক্যাপিটাল: সন্দেহজনক আট বিও তদন্তে

শেয়ারবাজারের সদস্যভুক্ত মার্চেন্ট ব্যাংক সাউথইস্ট ব্যাংক ক্যাপিটাল সার্ভিসেস লিমিটেডের অধীনে পরিচালিত আটটি বিও (বেনিফিশিয়ারি ওনার্স) হিসাব এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বাজার কারসাজির (ম্যানিপুলেশন) অভিযোগ উঠেছে। সম্ভাব্য এই কারসাজির অভিযোগ খতিয়ে দেখতে নতুন করে অনুসন্ধান ও তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

শেয়ারবাজার ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষার্থে এই মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠানের নির্দিষ্ট কিছু ক্লায়েন্ট কোডসহ বিও হিসাবের লেনদেন খতিয়ে দেখতে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি। কমিটিকে আগামী ৬০ কার্যদিবসের মধ্যে অনুসন্ধান সম্পন্ন করে কমিশনের কাছে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরে দায়ী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সম্প্রতি বিএসইসির মার্কেট ইন্টেলিজেন্স ও ইনভেস্টিগেশন ডিভিশনের ইনকোয়ারি অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত একটি আদেশ জারি করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

তদন্তের আদেশ সাউথইস্ট ব্যাংক ক্যাপিটাল সার্ভিসেস লিমিটেডের ব‌্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছেও পাঠানো হয়েছে।

গঠিত এই কমিটির সদস্যরা হলেন— বিএসইসির অতিরিক্ত পরিচালক মোহাম্মদ রকিবুর রহমান, সহকারী পরিচালক লামিয়া আক্তার ও মো. আতিকুল্লাহ খাঁন।

বিএসইসির তদন্তের আদেশ

বিএসইসি মনে করে, শেয়ারবাজার এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের বৃহত্তর স্বার্থে সাউথইস্ট ব্যাংক ক্যাপিটাল সার্ভিসেস লিমিটেডের ক্লায়েন্ট কোড S11294. S11318, S11325, S20213 S20071, S11118, S11326 এবং S30005 এর সঙ্গে সম্পর্কিত অন্য হিসাবধারীদের শনাক্তকরণ এবং তাদের বিও হিসাসসমূহের মাধ্যমে সংগঠিত সম্ভাব্য মার্কেট ম্যানিপুলেশনের (বাজার কারসাজি) বিষয়ে অনুসন্ধান ও তদন্ত করা প্রয়োজন।

এমতাবস্থায়, সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অধ্যাদেশ ১৯৬৯-এর সেকশন ২১ এবং বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন আইন ১৯৯৩-এর ধারা ১৭(ক) এর প্রদত্ত ক্ষমতাবলে তিনজন কর্মকর্তার সমন্বয়ে একটি অনুসন্ধান ও তদন্ত কমিটি গঠন করার নির্দেশ প্রদান করা হলো।

তদন্তে যা খতিয়ে দেখা হবে

গঠিত তদন্ত কমিটি ৮টি ক্লায়েন্ট কোডের সঙ্গে সম্পর্কিত অন্য হিসাবধারীদের শনাক্ত করবে। একই সঙ্গে এসব হিসাবের মাধ্যমে পরিচালিত শেয়ার লেনদেন, বিও হিসাবের কার্যক্রম, অর্থের উৎস এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সম্ভাব্য যোগসাজশও তদন্তের আওতায় আনা হবে।

বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে শেয়ারবাজারে কিছু নির্দিষ্ট কোম্পানির শেয়ারের অস্বাভাবিক দরবৃদ্ধি ও লেনদেন নিয়ে নজরদারি জোরদার করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা। বিশেষ করে সংঘবদ্ধ শেয়ার কেনাবেচা, কৃত্রিমভাবে দর বাড়িয়ে বিনিয়োগকারীদের বিভ্রান্ত করা এবং অসাধু চক্রের কার্যক্রম শনাক্তে গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএসইসির পরিচালক ও মুখপাত্র মো. আবুল কালাম বলেছেন, ‘বিভিন্ন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সাউথইস্ট ব্যাংক ক্যাপিটালের বিভিন্ন ক্লায়েন্ট কোডের সঙ্গে সম্পর্কিত সুবিধাভোগীদের শনাক্ত করতে বিএসইসি একটি অনুসন্ধান ও তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। গঠিত কমিটি অভিযোগগুলোর সত্যতা খতিয়ে দেখবে। তদন্তে কোনো অসংগতি পাওয়া গেলে সে অনুযায়ী কমিশন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। তদন্ত কার্যক্রমের মাধ্যমে অনিয়ম উদঘাটন করে শেয়ারবাজারে শৃঙ্খলা ও বিনিয়োগকারীদের আস্থা বজায় রাখাই কমিশনের মূল লক্ষ্য।’

আরো