লভ্যাংশ পরিশোধে ব্যর্থতা, ফরচুন সুজ কর্মকর্তাদের জরিমানা বিএসইসির
বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) ১০১৩তম কমিশন সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। কমিশন সভায় বকেয়া নগদ লভ্যাংশ ও তালিকাভুক্তি ফি পরিশোধ না করার দায়ে ফরচুন সুজ লিমিটেডের শীর্ষ কর্মকর্তাদের জরিমানা করেছে এবং বেশ কিছু নীতিগত সিদ্ধান্তও গ্রহণ করেছে বিএসইসি।
বুধবার (১৩ মে) প্রকাশিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, কমিশনের সভাকক্ষে বিএসইসি’র চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদের সভাপতিত্বে মঙ্গলবার (১২ মে) অনুষ্ঠিত সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
বিএসইসি বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, ফরচুন সুজ লিমিটেড ২০২২ সালের ৩০ জুন তারিখে সমাপ্ত অর্থবছরের জন্য ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ এবং ৫ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ ঘোষণা করেছিল।
তবে, তালিকাভুক্ত কোম্পানিটি তার মোট ১৬.২৫ কোটি টাকার নগদ লভ্যাংশ প্রদানের মধ্যে ৩.৯৮ কোটি টাকা পরিশোধ করতে ব্যর্থ হয়।
এছাড়াও, কোম্পানিটি ২০২৩ সালের ৩১ জুলাই পর্যন্ত বিগত তিন বছরের জন্য ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ১৮.২৯ লাখ টাকা লিস্টিং ফি পরিশোধ করতে ব্যর্থ হয়।
বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) কোম্পানিটিকে আদেশের ৩০ দিনের মধ্যে বকেয়া নগদ লভ্যাংশ ও লিস্টিং ফি পরিশোধ করার নির্দেশ দিয়েছে।
এক্ষেত্রে সিকিউরিটিজ আইন লঙ্ঘন এবং বিনিয়োগকারীদের স্বার্থহানির জন্য দায়ী ব্যক্তিদের ওপর আর্থিক জরিমানা আরোপ করার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। জরিমানার অর্থ সাত দিনের মধ্যে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে (বিএসইসি) জমা দিতে হবে।
সূত্র মতে, এই সিদ্ধান্তের আওতায় ফরচুন সুজের চেয়ারম্যান মো. মিজানুর রহমানকে ৫ কোটি টাকা জরিমানা করা হয়েছে। পরিচালক মো. আমানুর রহমান, রবিউল ইসলাম এবং সাবেক পরিচালক মো. খসরুল ইসলামসহ প্রত্যেককে ৫০ লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক রোকসানা রহমানকে ৫০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
এছাড়াও ফরচুন সুজ লিমিটেডের প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা জামিল আহমেদ চৌধুরীকে ১০ লাখ টাকা এবং সাবেক কোম্পানি সচিব রিয়াজ উদ্দিন ভূঁইয়া ও বর্তমান কোম্পানি সচিব মো. নাজমুল হোসেনকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
অন্য একটি সিদ্ধান্তে বিএসইসি জানিয়েছে, যদি কোনো প্রাথমিক নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ কর্তৃক কোনো তালিকাভুক্ত কোম্পানির বোর্ড পুনর্গঠন করা হয় এবং পুনর্গঠিত বোর্ডের যৌথ শেয়ারের পরিমাণ ৩০ শতাংশের কম হয়, তাহলে রাইটস শেয়ার, বোনাস শেয়ার বা অনুরূপ ব্যবস্থার মাধ্যমে মূলধন সংগ্রহের ওপর আরোপিত বিধিনিষেধ আর প্রযোজ্য হবে না।
বিএসইসি আরও সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, স্টক এক্সচেঞ্জে ‘এ’ ক্যাটাগরিতে তালিকাভুক্ত ব্যাংকগুলো তাদের নিজস্ব ব্যাংকে ডিভিডেন্ড অ্যাকাউন্ট রাখতে পারবে।
এছাড়াও, স্বচ্ছ ও গবেষণাভিত্তিক আর্থিক সাংবাদিকতাকে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে গত বছরের উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় বিএসইসি “বিএসইসি ক্যাপিটাল মার্কেট জার্নালিজম এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ডস অ্যান্ড ফেলোশিপ ২০২৬” আয়োজন অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
কমিশন বলেছে, এই ফেলোশিপ সাংবাদিকদের বৈশ্বিক আর্থিক বাজার সম্পর্কে জ্ঞান বৃদ্ধি, বিশ্লেষণাত্মক দক্ষতা শক্তিশালী করা এবং নৈতিক রিপোর্টিং মান উন্নয়নে সহায়তা করবে।
গত বছর, বিএসইসি প্রথমবারের মতো এই কর্মসূচিটি চালু করে এবং প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন মিডিয়া ক্যাটাগরিতে নয়জন সাংবাদিককে পুরস্কৃত করে।
বিএসইসি’র পরিচালক ও মুখপাত্র মো. আবুল কালাম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।