বাংলাদেশ সরকারের সাবেক সচিব ও রাষ্ট্রদূত এম. মুনির-উজ-জামানের ইন্তেকাল

এম. মুনির-উজ-জামান, ১৯৫৮ ব্যাচের প্রাক্তন সিএসপি এবং বাংলাদেশ সরকারের সাবেক সচিব ও রাষ্ট্রদূত, গতকাল ১০ই জিলহজ, ২৮শে মে, দুপুর ২:০০ ঘটিকায় বার্ধক্যজনিত জটিলতায় নিজ বাসভবনে ইন্তেকাল করেছেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯০ বছর।

এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ

বৃষ্টিতে কমেছে সরবরাহ, বেড়েছে দাম

মে মাসের পর সর্বোচ্চ জ্বালানি তেলের দাম

তাঁর দুঃখজনক মৃত্যুতে দেশ একজন দেশপ্রেমিক, কৃতি গুণী শীর্ষ আমলা, কূটনীতিক এবং মাটির এক যোগ্য সন্তানকে হারালো। দেশের আমলাতন্ত্র তাঁর জীবনব্যাপী অবদানকে সর্বদা স্মরণ করবে। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, যুক্তরাজ্যের কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় এবং যুক্তরাষ্ট্রের উইলিয়ামস কলেজের প্রাক্তন ছাত্র ছিলেন। জাতীয় স্বার্থকে সবার উপরে স্থান দেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর আপসহীন অবদানের জন্য তিনি পরিচিত ছিলেন। তিনি ১৯৫৮ ব্যাচের একজন গর্বিত বাঙালি হিসেবে পাকিস্তানের তৎকালীন অভিজাত সিভিল সার্ভিসে তাঁর বর্ণাঢ্য কর্মজীবন শুরু করেন। স্বাধীনতাপূর্ব বাংলাদেশে তিনি কিশোরগঞ্জের এসডিও, কুমিল্লার এডিসি, বগুড়ার ডিসি, পাকিস্তান সরকারের বৈদেশিক অর্থ বিভাগের উপ-সচিব, ইপিএসসিআইসি-এর চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং স্বাধীনতাপরবর্তী বাংলাদেশে তিনি শীর্ষ পর্যায়ে উন্নীত হয়ে বিদ্যুৎ, পানি, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়, বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়, বৈদেশিক সম্পদ বিভাগ (বর্তমানে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ) সহ অন্যান্য জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। অবসর গ্রহণের পর তিনি বিশ্বব্যাংক গ্রুপে সিনিয়র কনসালটেন্ট হিসেবে কাজ করেন। পরবর্তীতে, তিনি সাবেক মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার হোয়াইট পেপার সেলের প্রধান পরামর্শক এবং সবশেষে পূর্ণ অবসরে যাওয়ার আগে ফিলিপাইনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ছিলেন ব্রিটিশ বাংলার বিধানসভার প্রাক্তন বিধায়ক মরহুম এম. তোফাজ্জল হোসেন এবং যশোরের চৌগাছার কলকাতায় শিক্ষিত এক প্রখ্যাত জমিদারের জ্যেষ্ঠ পুত্র। মৃত্যুকালে তিনি তাঁর স্ত্রী, দুই পুত্র, পাঁচ নাতি-নাতনি এবং পাঁচ প্রপৌত্র -প্রপৌত্রী রেখে গেছেন।

তাঁর প্রথম জানাজার নামাজ আজ শুক্রবার, ২৯শে মে, বাদ জুম্মা গুলশান আজাদ মসজিদে অনুষ্ঠিত হবে।

[atn_photocard]
আরো