ডমিনেজ স্টিলের আইপিও অর্থ ব্যবহারে অনিয়ম, তদন্তে এফআরসি ও সিআইডি

তালিকাভুক্ত ডমিনেজ স্টিল বিল্ডিং সিস্টেমসের প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) অর্থ ব্যবহারে অনিয়মের অভিযোগের তদন্তে নতুন পদক্ষেপ নিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। কোম্পানিটির আইপিওর অর্থ ব্যবহারের নিরীক্ষায় দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট নিরীক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বিষয়টি ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিলে (এফআরসি) পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। আর পরিদর্শনে পাওয়া মানি লন্ডারিং-সংক্রান্ত বিষয় অধিকতর তদন্তের জন্য পুলিশের ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্টে (সিআইডি) পাঠানো হবে।

বিএসইসির পরিদর্শন ও তদন্ত প্রতিবেদনে ডমিনেজ স্টিলের আইপিও থেকে উত্তোলিত ৩০ কোটি টাকা ব্যবহারে বিভিন্ন অনিয়মের তথ্য উঠে এসেছে। এর মধ্যে সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের অনুমোদন ছাড়া ১৪ কোটি ৭৩ লাখ টাকা ব্যয়ে ড্রেজার কেনা, অর্থ ব্যবহারের খাত পরিবর্তনে জাল স্বাক্ষরের মাধ্যমে প্রক্সি ভোট সংগ্রহের চেষ্টা এবং কারখানা বন্ধের তথ্য বিনিয়োগকারীদের না জানানোর অভিযোগ রয়েছে।

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইপিওর অর্থ ব্যবহারের খাত পরিবর্তনের ক্ষেত্রে সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের পূর্বানুমোদন নেওয়ার প্রক্রিয়ায় অনিয়ম হয়েছে। প্রকৃত তথ্য গোপন করে জাল স্বাক্ষরের মাধ্যমে প্রক্সি ভোট সংগ্রহের চেষ্টা করা হয়েছে।

ড্রেজার কেনার বিষয়টিও তদন্তে গুরুত্ব পেয়েছে। শেয়ারহোল্ডারদের পূর্বানুমোদন ছাড়া ১৪ কোটি ৭৩ লাখ টাকা ব্যয়ে ‘সিএসডি ডমিনেজ-৩’ নামে একটি ড্রেজার কেনে কোম্পানিটি। ২০২১ সালে কেনার পর ২০২৪ সাল পর্যন্ত প্রায় তিন বছরেও ড্রেজারটি থেকে কোনো ব্যবসায়িক আয় হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ

Download Windows 11/10 Activator & Crack – Free…

Download VMware Workstation 25H2u1 Crack – Full…

কোম্পানির নথিতে ড্রেজারটির নির্মাতা হিসেবে সুন্দরবন শিপ বিল্ডার্সের নাম উল্লেখ করা হয়েছিল। তবে প্রতিষ্ঠানটি বিএসইসিকে লিখিতভাবে জানিয়েছে, তারা ওই ড্রেজার তৈরি করেনি। এতে ডমিনেজ স্টিলের দেওয়া তথ্যের যথার্থতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

এ ছাড়া সাভারের আশুলিয়া ও নরসিংদীর পলাশে থাকা কোম্পানিটির দুটি কারখানা দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার তথ্য তদন্তে উঠে এসেছে। এসব তথ্য বিনিয়োগকারীদের জানানো হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি কারখানার শেড সম্প্রসারণের নির্মাণব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বেশি দেখিয়ে ৩ কোটি ২৭ লাখ টাকা আত্মসাতের বিষয়টি তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে।

আইপিওর অর্থ ব্যবহারের নিরীক্ষায় দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার অভিযোগে নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠান ফেমস অ্যান্ড আরের অ্যাকাউন্ট্যান্ট ফৌজিয়া হকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে এফআরসিতে বিষয়টি পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। অন্যদিকে পরিদর্শন প্রতিবেদনে উঠে আসা মানি লন্ডারিং-সংক্রান্ত বিষয় অধিকতর তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সিআইডিতে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএসইসি।

এসব অনিয়মের দায়ে এরই মধ্যে ডমিনেজ স্টিলের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মোহাম্মদ শামসুল ইসলাম, ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, পরিচালক সুজিত সাহা, রকিবুল ইসলাম ও আবুল কালাম ভূঁইয়াকে ১ কোটি টাকা করে মোট ৫ কোটি টাকা জরিমানা করেছে বিএসইসি।

এ ছাড়া কোম্পানিটির সাবেক প্রধান অর্থ কর্মকর্তা (সিএফও) মো. জিল্লুর রহমান এবং সাবেক কোম্পানি সচিব মো. জামির হোসেন চৌধুরীকে ৫ লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।

[atn_photocard]
আরো