‘অবৈধ গ্যাস সংযোগ উচ্ছেদে তিতাসের অভিযান, জরিমানা আদায়’
তিতাস গ্যাস কর্তৃক গ্যাসের অবৈধ ব্যবহার শনাক্তকরণ এবং উচ্ছেদ অভিযান কার্যক্রম চলমান রয়েছে। নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জনাব মিল্টন রায়, জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ বিভাগ-এর নেতৃত্বে গত ১৫ এপ্রিল (মঙ্গলবার) ২০২৫ তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিসন এন্ড ডিষ্ট্রিবিউশন পিএলসি-এর জোবিঅ-আশুলিয়া, আঞ্চলিক বিক্রয় বিভাগ-সাভার -এর আওতাধীন আশুলিয়ার জামগড় ও ইটখোলা এলাকার ০২(দুই)কিলোমিটার এলাকা জুড়ে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে অবৈধ উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে। অভিযানে প্রায় ৫০০টি অবৈধ আবাসিক গ্যাস বার্নারের সংযোগ বিচ্ছিন্ন ও ৪০০ মিটার পাইপ অপসরণ পূর্বক জব্দ করা হয়েছে। এতে প্রায় ১১,৩৩৪ ঘনফুট/ঘন্টা গ্যাস সাশ্রয় করা সম্ভব হবে। অবৈধ গ্যাস সংযোগ ব্যবহারের দায়ে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে তিনটি প্রতিষ্ঠান মেসার্স মক্কা হোটেল এন্ড চাঁদপুর রেস্টুরেন্ট, মেসার্স মদিনা হোটেল ও মেসার্স গাইবান্ধা হোটেল এবং ০২(দুই) জন অবৈধ গ্রাহক জনাব আব্দুল ওয়াহাব মীর ও জনাব হুমায়ুনকে পৃথক পৃথক মামলায় ০১ লাখ ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করে তাৎক্ষণিক তা আদায় করা হয়েছে।
একই দিন জনাব নাজমূল হুদা, সিনিয়র সহকারী কমিশনার ও বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, নারায়ণগঞ্জ এর নেতৃত্বে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিসন এন্ড ডিষ্ট্রিবিউশন পিএলসি-এর জোবিঅ-আড়াইহাজার, আঞ্চলিক বিক্রয় বিভাগ- রুপগঞ্জ -এর আওতাধীন কালিবাড়ি বাজার সংলগ্ন এবং সত্যবান্দি, দুপ্তারা আড়াইহাজার, নারায়ণগঞ্জ এলাকায় ২.৫কিলোমিটার এলাকা জুড়ে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে অবৈধ উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে। অভিযানে প্রায় ৮২০টি অবৈধ আবাসিক গ্যাস বার্নারের সংযোগ বিচ্ছিন্ন ও ১১০ ফিট এমএস পাইপ, ০১ টি প্যাকেজ বার্ণার ও ০১ বুস্টার অপসরণ পূর্বক জব্দ করা হয়েছে। অবৈধ কারখানায় অভিযানকালে ফ্যাক্টরি সংশ্লিষ্ট কেউ না থাকায় জেল/জরিমানা করা সম্ভব হয়নি।
এছাড়া, আঞ্চলিক রাজস্ব শাখা-নারায়ণগঞ্জের নেতৃত্বে হোসাইননগর, কাশিপুর, ফতুল্লা, নারায়ণগঞ্জ এলাকায় ০৫ (পাঁচ) টি বিশেষ টীমের মাধ্যমে সংযোগ বিচ্ছিন্নকরণ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। উক্ত অভিযানে বকেয়া গ্যাস বিলের কারণে ০৩ (তিন) টি যাদের বার্ণার সংখ্যা ছিল ০৬ (ছয়) ডাবল চুলা, অতিরিক্ত স্থাপনায় গ্যাস ব্যবহারের কারণে ১০ (দশ) টি আবাসিক যাদের বিচ্ছিন্নকৃত বার্ণার সংখ্যা ৯৯ (নিরানব্বই) ডাবল চুলা। এছাড়াও অভিযান পরিচালনাকালে সম্পূর্ণ অবৈধ গ্যাস ব্যবহারের (গ্রাহক সংকেত ব্যতীত) কারণে ১০ (দশ) টি গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয় যাদের বার্ণার সংখ্যা ছিল ৩৩ (তেত্রিশ) টি ডাবল চুলা।
উল্লেখ্য, সেপ্টেম্বর, ২০২৪ হতে গত ১৫ এপ্রিল ২০২৫ তারিখ পর্যন্ত অভিযান পরিচালনা করে ২৩০টি শিল্প, ১৫৫টি বাণিজ্যিক ও ২৯,২৩২টি আবাসিকসহ মোট ২৯,৬১৭টি অবৈধ গ্যাস সংযোগ ও ৬৭,২১২টি বার্নার বিচ্ছিন্ন সহ উক্ত অভিযানসমূহে ১৪৪ কিলোমিটার পাইপলাইন অপসারণ করা হয়েছে ।