বাণিজ্য মেলায় এসএমই ফাউন্ডেশনের অধীনে পাঁচ নারী উদ্যোক্তার স্টল
৩০তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলা–২০২৬ এ শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনায় অংশ নিয়েছে মোট ১১টি স্টল। এর মধ্যে পাঁচটি স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে নারী উদ্যোক্তাদের জন্য।
এই পাঁচ নারী উদ্যোক্তার একজন শামীম আরা দীপা। তিনি ‘রাহেলা জুট ক্রাফট’ নামের স্টল নিয়ে মেলায় অংশগ্রহণ করছেন। ২০১০ সালে শখের বশে অনলাইনভিত্তিকভাবে পাটজাত পণ্য তৈরির মাধ্যমে তার উদ্যোক্তা জীবনের সূচনা হয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তার উদ্যোগ বিস্তৃত হয়ে বর্তমানে নিজস্ব উৎপাদন কারখানা ও বিক্রয়কেন্দ্রে রূপ নিয়েছে। রাজধানীর মতিঝিলের করিম চেম্বারের দ্বিতীয় তলায় কম্বাইন জুট উদ্যোক্তাদের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা একটি মেগা শপিং মলেও তার একটি দোকান রয়েছে।
শামীম আরা দীপা জানান, দেশীয় বাণিজ্য মেলাগুলোর পাশাপাশি তিনি নিয়মিতভাবে বিভিন্ন প্রদর্শনীতে অংশ নিয়ে তার পণ্যের পরিচিতি বাড়ানোর চেষ্টা করছেন। আন্তর্জাতিক পর্যায়েও ভারত, নেপাল ও জার্মানিতে তার তৈরি পাটজাত পণ্যের প্রদর্শনী হয়েছে। তার কারখানা, শোরুম ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বর্তমানে একাধিক মানুষের কর্মসংস্থান নিশ্চিত হয়েছে। সরকারি সহায়তা বাড়লে তিনি ব্যবসা সম্প্রসারণের মাধ্যমে নারীদের জন্য আরও বেশি কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে চান বলে জানান।
চলতি বাণিজ্য মেলায় এসএমই ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে শামীম আরা দীপার পাশাপাশি আরও চারজন নারী উদ্যোক্তা স্টল বরাদ্দ পেয়েছেন। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে— সেইফ ট্রেডিং কর্পোরেশন (সতেজ), দেশি, আরশি এবং ফাতিহা ড্রাই ফুড।
এসএমই ফাউন্ডেশনের সহকারী ব্যবস্থাপক নাজমা খাতুন বলেন, এবারের মেলায় ফাউন্ডেশনের আওতায় মোট ১১ জন উদ্যোক্তা অংশ নিচ্ছেন, যার মধ্যে পাঁচজন নারী। ঢাকা ছাড়াও দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে নারী উদ্যোক্তারা এতে অংশগ্রহণ করেছেন। মেলায় অংশ নেওয়ার মাধ্যমে তারা তাদের পণ্য প্রদর্শনের পাশাপাশি নতুন ধারণা ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ পাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে পণ্যের বৈচিত্র্য ও মান উন্নয়নে সহায়ক হবে।
তিনি আরও জানান, ক্ষুদ্র নারী উদ্যোক্তাদের জন্য ভর্তুকির মাধ্যমে স্টল বরাদ্দের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ব্যক্তিগতভাবে স্টল নিলে যে বিপুল ব্যয় হতো, তা অনেক উদ্যোক্তার পক্ষেই বহন করা সম্ভব নয়। এসএমই ফাউন্ডেশনের সহায়তায় তারা তুলনামূলক কম খরচে পণ্য প্রদর্শন ও বিক্রির সুযোগ পাচ্ছেন, যা তাদের ব্যবসা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
উল্লেখ্য, এবারের ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলায় বিদেশি ১১টি স্টলসহ বিভিন্ন শ্রেণিতে মোট ৩২৪টি প্যাভিলিয়ন, স্টল ও রেস্টুরেন্ট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। পরিবেশ সুরক্ষার অংশ হিসেবে মেলায় পলিথিন ও একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক সামগ্রী নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বিকল্প হিসেবে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে স্বল্পমূল্যে পরিবেশবান্ধব শপিং ব্যাগ সরবরাহ করা হবে।