টন প্রতি রডের দাম বাড়তে পারে সাড়ে ৩ হাজার টাকা

নতুন করে বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি এবং জ্বালানি, বন্দর মাশুলসহ বিভিন্ন ব্যয় বাড়ার ফলে দেশে প্রতি টন রডের দাম প্রায় সাড়ে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন ইস্পাত খাতের ব্যবসায়ীরা। তারা বলছেন, শুধু বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির কারণেই প্রতি টন রডের উৎপাদন ব্যয় প্রায় ১ হাজার ৭৮৫ টাকা বাড়বে। অন্যদিকে জ্বালানি তেল, চট্টগ্রাম বন্দরের মাশুল ও অন্যান্য ব্যয় যুক্ত হলে মোট ব্যয় বৃদ্ধি দাঁড়াতে পারে প্রায় ৩ হাজার ৫৬০ টাকা।

রডের দাম বেশি বাড়ালে বিক্রি কমে যাবে। ফলে বাড়তি ব্যয়ের বড় অংশ শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকেই বহন করতে হবে, যা শিল্পখাতকে আরও সংকটের মুখে ফেলবে। এতে ঋণ পরিশোধে সমস্যা তৈরি হওয়ার পাশাপাশি কর্মসংস্থানও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। তাই বিদ্যুতের বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ স্টিল ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএসএমএ)।

সোমবার (৮ জুন) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সভাপতি মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম লিখিত বক্তব্যে এ দাবি জানান।

তিনি বলেন, দেশের স্টিলশিল্প বর্তমানে নানা ধরনের সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। নির্মাণ খাতে দীর্ঘদিনের মন্দা, বাজারে চাহিদা কমে যাওয়া, উচ্চ সুদহার, টাকার অবমূল্যায়ন, ডলার সংকট, ঋণপত্র খোলার জটিলতা, কার্যকর মূলধনের ঘাটতি, গ্যাস সরবরাহ সমস্যা এবং পরিবহন ও লজিস্টিক ব্যয়ের ঊর্ধ্বগতি শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর টিকে থাকাকে কঠিন করে তুলেছে।

বিএসএমএ সভাপতি বলেন, দেশে বর্তমানে ৪০টি আধুনিক স্টিল মিল এবং ১৫০টির বেশি রি-রোলিং মিল রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের সম্মিলিত উৎপাদন সক্ষমতা বছরে প্রায় ১ কোটি ২২ লাখ টন হলেও দেশের বার্ষিক চাহিদা প্রায় ৫০ লাখ টন। ফলে অধিকাংশ কারখানা তাদের সক্ষমতার অর্ধেকেরও কম উৎপাদন করছে।

এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ

মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, বিদ্যুৎ খাতের আর্থিক চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে শিল্পমালিকরা সচেতন। তবে বিদ্যুৎ খাতের কাঠামোগত অদক্ষতা, ক্যাপাসিটি চার্জ এবং নীতিগত সীমাবদ্ধতার আর্থিক দায় উৎপাদনশীল শিল্পখাতের ওপর চাপিয়ে দেওয়া কোনো টেকসই সমাধান নয়। এতে শিল্প উৎপাদন কমবে, নতুন বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত হবে এবং দেশের শিল্পখাতের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, শিল্প টিকিয়ে রাখতে বিদ্যুতের বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহার করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে আসন্ন বাজেটে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ইস্পাত খাতে নতুন কর আরোপের পরিকল্পনা করছে বলে আমরা জেনেছি। এটি বাস্তবায়িত হলে রডের দাম আরও বাড়বে, যা ক্রেতাদের জন্য অতিরিক্ত চাপ তৈরি করবে।

সংবাদ সম্মেলনে বিএসএমএর মহাসচিব সুমন চৌধুরী বিদ্যুৎকেন্দ্রের ক্যাপাসিটি চার্জ ব্যবস্থা পুনর্বিবেচনার দাবি জানান। তিনি বলেন, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ক্যাপাসিটি চার্জ বাবদ সরকার প্রায় ৩২ হাজার কোটি টাকা এবং পরবর্তী অর্থবছরে প্রায় ৪২ হাজার কোটি টাকা পরিশোধ করেছে। অর্থনীতিকে এই ব্যয় থেকে মুক্ত করতে বিদ্যুৎ খাতের চুক্তিগুলো পুনর্মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের ব্যয়ের বিষয়ে আরও বেশি জবাবদিহি নিশ্চিত করা উচিত এবং জনস্বার্থে এসব ব্যয়ের হিসাব প্রকাশ করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে শিল্প উদ্যোক্তাদের সঙ্গে সরকারকে আলোচনায় বসে ব্যবসা-বাণিজ্যের বিদ্যমান সমস্যাগুলোর কার্যকর সমাধান খুঁজে বের করার আহ্বান জানাচ্ছি।

উল্লেখ্য, চলতি মাসের শুরুতে পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম ১৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়েছে। পাশাপাশি গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের গড় মূল্য ১৬ দশমিক ৬৮ শতাংশ এবং সঞ্চালন চার্জ ২৩ দশমিক ৯৬ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সাবেক সভাপতি মানোয়ার হোসেন, শেখ মাসাদুল আলমসহ অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

আরো