ইউসিবির রাইট ইস্যু আবেদনে অসঙ্গতি, বিএসইসির ব্যাখ্যা তলব
পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ব্যাংক খাতের প্রতিষ্ঠান ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবি) পিএলসি-এর রাইটস ইস্যু আবেদনে একাধিক আর্থিক অসঙ্গতি ও নিয়মভঙ্গের প্রমাণ পেয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। এ কারণে ব্যাংকটিকে বিস্তারিত ব্যাখ্যা ও প্রয়োজনীয় নথিসহ প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছে কমিশন।
সম্প্রতি বিএসইসির কর্পোরেট ফাইন্যান্স ডিভিশনের আইপিও, আরপিও ও রাইটস ইস্যু শাখা থেকে ইউসিবির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে এ সংক্রান্ত একটি চিঠি পাঠানো হয়।
নিরীক্ষায় বড় ঘাটতি ও ক্ষতির ইঙ্গিত
বিএসইসি জানায়, ইউসিবির ১৮ আগস্ট জমা দেওয়া রাইটস আবেদন ও সংশ্লিষ্ট নথি যাচাই করে দেখা যায়, ব্যাংকের নিরীক্ষকরা ‘কোয়ালিফাইড অপিনিয়ন’ দিয়েছেন। এতে ৫ হাজার ২৭৭ কোটি টাকার প্রভিশন ঘাটতি এবং ১৯২ কোটি টাকার অতিরিক্ত সুদ আয় হিসাবভুক্ত করার বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে।
এই সমন্বয়গুলো করলে ব্যাংকের ঘোষিত ৩৮ কোটি ৬০ লাখ টাকার মুনাফা আসলে ৫ হাজার ৪৩০ কোটিরও বেশি লোকসানে রূপ নেবে। পাশাপাশি মূলধন ঘাটতি বেড়ে দাঁড়াবে ৮ হাজার ২০৬ কোটির বেশি। এর ফলে ব্যাংকের ক্যাপিটাল অ্যাডিকোয়েসি রেশিও (সিএআর) নেমে আসে ৭.৪৪ শতাংশে, যা প্রয়োজনীয় ১২.৫০ শতাংশের নিচে।
রাইটস ইস্যু বিধিমালা ২০০৬-এর ৩(এইচ) ধারা অনুযায়ী, কোনো কোম্পানির রাইটস ইস্যুর জন্য পূর্ববর্তী বছরে সন্তোষজনক মুনাফা থাকা বাধ্যতামূলক। কিন্তু ইউসিবির বর্তমান আর্থিক অবস্থায় ব্যাংকটি ওই শর্ত পূরণ করছে না বলে কমিশনের মন্তব্য।
স্পনসর-পরিচালকদের শেয়ার ঘাটতি
বিএসইসির পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, ইউসিবির স্পনসর ও পরিচালকরা বর্তমানে ব্যাংকের মোট শেয়ারের মাত্র ১০.২৭ শতাংশ ধারণ করছেন। অথচ ২০১১ সালের বিএসইসি নির্দেশনা অনুযায়ী ন্যূনতম ৩০ শতাংশ যৌথভাবে ধারণ করা বাধ্যতামূলক।
উক্ত নির্দেশনা অনুযায়ী, এই শর্ত পূরণ না করলে সংশ্লিষ্ট কোম্পানি রাইটস শেয়ার বা রিপিট পাবলিক অফারের মাধ্যমে মূলধন সংগ্রহ করতে পারে না। ফলে ইউসিবির রাইট ইস্যু ঘোষণাকে কমিশন নির্দেশনা লঙ্ঘন হিসেবে দেখছে।
ব্যাখ্যা ও মতামত চাওয়া
বিএসইসি জানায়, রাইটস ইস্যু বিধিমালা ২০০৬-এর ১০(২) ধারা অনুযায়ী, ইউসিবিকে ১৫ দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যা, নথিপত্র ও ঘাটতি পূরণের তথ্য জমা দিতে হবে। একই সঙ্গে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই)-কে ১০ কর্মদিবসের মধ্যে তাদের মতামত পাঠাতে বলা হয়েছে।
বাজার সংশ্লিষ্টদের অভিমত
পুঁজিবাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, বিএসইসির এই পদক্ষেপ বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষায় ইতিবাচক উদ্যোগ। কোনো প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ভিত্তি দুর্বল ও নিরীক্ষা প্রতিবেদনে বড় ঘাটতি থাকলে রাইটস ইস্যু বিনিয়োগকারীদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে দাঁড়ায়। তাই নিয়ন্ত্রক সংস্থার সতর্কতা বাজারের স্থিতিশীলতার জন্য প্রয়োজনীয়।
বিষয়টি নিয়ে বিএসইসির পরিচালক ও মুখপাত্র মো. আবুল কালাম বলেন,
> “ইউসিবিএলের রাইট ইস্যুর আবেদন কমিশন যাচাই করছে। কিছু বিষয়ে ইতিমধ্যে তাদের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।”
অন্যদিকে ইউসিবির প্রধান অর্থ কর্মকর্তা ফারুক আহমেদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।