দুর্বল ব্যাংক–এনবিএফআইতে বড় ঝুঁকিতে আইপিডিসির আমানত
দুর্বল অবস্থায় থাকা কয়েকটি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে আমানত রাখার কারণে বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়েছে আইপিডিসি ফাইন্যান্স পিএলসি। এর মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের সিদ্ধান্তে একীভূত হতে যাওয়া দুই ইসলামী ব্যাংক এবং অবসায়নের তালিকায় থাকা দুটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানও রয়েছে। শুধু এই চার প্রতিষ্ঠানে আইপিডিসির আটকে পড়ার আশঙ্কায় থাকা আমানতের পরিমাণ প্রায় ৮৮ কোটি টাকা।
আইপিডিসির ২০২৪ সালের বার্ষিক আর্থিক প্রতিবেদনে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানটির মোট আমানত রয়েছে ৬২৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে স্বল্পমেয়াদি প্লেসমেন্ট হিসেবে পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসে ২ কোটি ৮৫ লাখ টাকা এবং ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসে ৮৮ লাখ ৩৮ হাজার টাকা রাখা হয়েছে—যে দুটি প্রতিষ্ঠানই বাংলাদেশ ব্যাংকের অবসায়নের তালিকায় রয়েছে।
গত কয়েক সপ্তাহে বাংলাদেশ ব্যাংক নয়টি আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ করার নীতিগত সিদ্ধান্ত জানিয়েছে। গভর্নর গণমাধ্যমকে বলেছেন, সরকারও এতে সম্মতি দিয়েছে। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান, বন্ধের প্রক্রিয়া এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়নি। প্রথমে ব্যাংক একীভূতকরণের কার্যক্রম এগোবে, পরে এনবিএফআইগুলোর বিষয়ে কঠোর সিদ্ধান্ত আসবে।
ফিক্সড ডিপোজিট হিসেবেও বিভিন্ন ব্যাংকে আইপিডিসির উল্লেখযোগ্য পরিমাণ টাকা রয়েছে। এর মধ্যে একীভূতকরণ প্রক্রিয়ায় থাকা এক্সিম ব্যাংক ও সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকে রাখা স্থায়ী আমানতের পরিমাণ ৮৪ কোটি ৫০ লাখ টাকা। এই টাকাগুলো ফেরত পাওয়া নিয়েও তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতি অনুযায়ী, একীভূত ব্যাংকগুলোতে সরকারি সহায়তা দেওয়ার পর ধাপে ধাপে আমানত ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হবে। যাদের আমানত ২ লাখ টাকা বা এর কম, তাঁরা একবারেই সমগ্র টাকা উঠাতে পারবেন। বেশি অঙ্কের আমানতকারীদের ক্ষেত্রে ধাপে ধাপে পরিশোধ করা হবে এবং বড় জমার একটি অংশ শেয়ারে রূপান্তরের প্রস্তাবও থাকতে পারে—যেটি প্রায় ২০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে।
এ বিষয়ে আইপিডিসি ফাইন্যান্সের কোম্পানি সেক্রেটারি ও লিগ্যাল অ্যাফেয়ার্স প্রধান সামিউল হাশিম জানান, বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ীই প্রতিষ্ঠানটি পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে। একই প্রতিক্রিয়া এসেছে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্রের কাছ থেকেও। তাঁর ভাষায়, “কারও আমানত হারানোর ঝুঁকি নেই। তবে তাৎক্ষণিকভাবে সবার টাকা ফেরত দেওয়া সম্ভব নয়। স্বল্প পরিমাণ আমানত আগে দেওয়া হবে, বাকি অংশ সময় নিয়ে ফেরত দেওয়া হবে। প্রাতিষ্ঠানিক আমানতের ক্ষেত্রেও একই নীতি প্রযোজ্য।”