মেরিকো পণ্যের নকলের ছড়াছড়ি, ভোক্তাদের মধ্যে বাড়ছে উদ্বেগ
দেশজুড়ে নামকরা বাংলাদেশি ও আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের নকল পণ্য বিক্রি নতুন নয়, তবে সাম্প্রতিক সময়ে জনপ্রিয় বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান মেরিকোর পণ্যের নকলের পরিমাণ ব্যাপকভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে হেয়ার অয়েল, স্কিন কেয়ার ও গ্রুমিং ক্যাটাগরির পণ্যে নকলের ছড়াছড়ি দেখা যাচ্ছে, যা নিয়ে ভোক্তাদের মধ্যে বাড়ছে উদ্বেগ।
বাজার সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রাজধানীসহ বিভিন্ন জেলা শহরের পাইকারি ও খুচরা বাজারে নিম্নমানের কাঁচামাল দিয়ে তৈরি নকল মেরিকো পণ্য সহজেই পাওয়া যাচ্ছে। এসব পণ্যে প্যাকেটিং থেকে শুরু করে বোতল, লেবেল, এমনকি স্টিকার—সবকিছুই আসল পণ্যের মতো করে তৈরি করা হচ্ছে। ফলে সাধারণ ক্রেতারা খুব সহজেই বিভ্রান্ত হচ্ছেন এবং অজান্তেই ক্ষতিকর নকল পণ্য ব্যবহার করছেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিম্নমানের উপাদানে তৈরি এসব নকল কসমেটিক্স ও অয়েল ব্যবহার করলে ত্বক ও চুলে ক্ষতির সম্ভাবনা থাকে। দীর্ঘমেয়াদে অ্যালার্জি, চুল পড়া, স্কিন স্কিন র্যাশসহ নানা ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে।
গত ৬-১২-২০২৫ তারিখে গুলিস্তান কাপ্তানবাজারে কেনাকাটা করতে গিয়ে দেখি, এক ক্রেতা দোকানদারকে বলছে, “ভাই, গতবারের প্যারাসুট তেলটা নকল।”
দোকানদার ওই ক্রেতাকে বলল, “ভাই, সব মাল কোম্পানি দিয়েই যায়—আমাদের কিছু করার উপায় নেই। বোতলের মধ্যে কিউআর কোড না থাকায় নকল চেনারও উপায় থাকে না।” মেরিকো বাংলাদেশের মার্কেট তদারকি না থাকায় গ্রাহকরা প্রতারিত হচ্ছে।
“এ বিষয়ে মেরিকো কর্তৃপক্ষের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কাউকে পাওয়া যায়নি।” নকল কারবারিদের বিরুদ্ধে তারা নিয়মিত বাজার পর্যবেক্ষণ চালাচ্ছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় একাধিক অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি ভোক্তাদের আসল পণ্য শনাক্তে লেবেল, কিউআর কোড ও প্রামাণিক সিল চেক করার পরামর্শ দিয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নকল পণ্য তৈরি ও বিপণনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তারা আরও জানিয়েছেন, এ ধরনের অপরাধে জরিমানা ও কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে, যা প্রয়োগে কঠোরতা বাড়ানো হবে।
ভোক্তা অধিকার সংগঠনগুলো বলছে, নকল পণ্য রোধে শুধু অভিযান নয়, ভোক্তা সচেতনতা এবং ব্যবসায়ীদের দায়িত্বশীলতাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নকল পণ্য ঠেকাতে সকল পক্ষের সমন্বিত উদ্যোগের ওপরই জোর দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।