ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের নতুন সিএফও আবিদ হোসেন খান
মো. আবিদ হোসেন খান, এফসিএ, এফএফএ, এফআইপিএ (ইউকে) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ পিএলসি.-এর (ডিএসই) নতুন প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা (চিফ ফাইন্যান্সিয়াল অফিসার—সিএফও) হিসেবে যোগদান করেছেন। তিনি রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
ডিএসইতে যোগদানের আগে তিনি শপআপ গ্রুপে গ্রুপ ডেপুটি চিফ ফাইন্যান্সিয়াল অফিসার ও ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে তিনি বাংলালিংক ডিজিটাল কমিউনিকেশন্স লিমিটেডে এফপিঅ্যান্ডএ ডিরেক্টর এবং গ্রামীণফোন লিমিটেডে মহাব্যবস্থাপক (ফাইন্যান্স) হিসেবে দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালন করেছেন।
আবিদ হোসেন খান একজন অভিজ্ঞ ফেলো চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট। হিসাবরক্ষণ, আর্থিক নিয়ন্ত্রণ, আর্থিক পরিকল্পনা ও বিশ্লেষণ (FP&A), ট্রেজারি, কর ব্যবস্থাপনা এবং ব্যবসায়িক পারফরম্যান্স ব্যবস্থাপনায় তাঁর ১৬ বছরেরও বেশি পেশাগত অভিজ্ঞতা রয়েছে। বৃহৎ ও বহুমুখী দল পরিচালনা, কার্যকর আর্থিক কৌশল প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন এবং প্রক্রিয়া উন্নয়ন ও আধুনিকায়নে তিনি সুপরিচিত।
তিনি ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি থেকে হিসাববিজ্ঞানে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তীতে কেপিএমজি বাংলাদেশ-এর তত্ত্বাবধানে ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশ (আইসিএবি) থেকে চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট হিসেবে যোগ্যতা অর্জন করেন এবং বর্তমানে ফেলো চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট। পাশাপাশি তিনি যুক্তরাজ্যের ইনস্টিটিউট অব ফাইন্যান্সিয়াল অ্যাকাউন্ট্যান্টস (আইএফএ) এবং ইনস্টিটিউট অব পাবলিক অ্যাকাউন্ট্যান্টস (আইপিএ)-এর ফেলো সদস্য।
কর্মজীবনে তিনি গ্রামীণফোন ও বাংলালিংকের মতো শীর্ষস্থানীয় বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানে আর্থিক প্রতিবেদন, আইএফআরএস অনুযায়ী হিসাব প্রণয়ন, কর ব্যবস্থাপনা, নিয়ন্ত্রক সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় এবং কর্পোরেট অডিট ও মূল্যায়ন কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। এছাড়া তিনি এসটিএস গ্রুপে হেড অব ফাইন্যান্স অ্যান্ড অ্যাকাউন্টস হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
শপআপ গ্রুপে দায়িত্ব পালনকালে তিনি বাংলাদেশ ও সিঙ্গাপুরভিত্তিক একাধিক প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক ফাইন্যান্স কার্যক্রম তত্ত্বাবধান করেন। এ সময় তিনি দেশি-বিদেশি উৎস থেকে ঋণ ও ইকুইটি ফান্ড সংগ্রহ, বৈদেশিক ঋণ ব্যবস্থাপনা, ব্যবসা সম্প্রসারণ এবং কর্পোরেট গভর্ন্যান্স কাঠামো শক্তিশালীকরণে নেতৃত্ব দেন।
পেশাগত জীবনে তিনি বৃহৎ আইপিও সম্পন্নকরণ, আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও উন্নয়ন সংস্থার সঙ্গে অর্থায়ন চুক্তি, আইটি-ভিত্তিক ফাইন্যান্স সিস্টেম ও ইআরপি বাস্তবায়ন এবং ব্যয় সাশ্রয়মূলক প্রক্রিয়া উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছেন। ব্যাংক, নিয়ন্ত্রক সংস্থা, বিনিয়োগকারী ও অন্যান্য অংশীজনের সঙ্গে তাঁর পেশাদার সম্পর্ক সুপ্রতিষ্ঠিত।
তিনি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ওপর স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক গবেষণা জার্নাল এবং দৈনিক পত্রিকায় মোট আটটি প্রবন্ধ প্রকাশ করেছেন। পাশাপাশি নেতৃত্ব উন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিবেদন মান (IFRS) বিষয়ে দেশ-বিদেশে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন। ফ্রান্সভিত্তিক ইনসিয়াড (INSEAD)-এর চ্যাম্পিয়ন্স ট্রেনিং প্রোগ্রামের আওতায় ডিজিটাল ইনোভেশন, কন্টিনিউয়াস ইমপ্রুভমেন্ট এবং এইচএফএমভিত্তিক রিপোর্টিং ও প্রেজেন্টেশন বিষয়ে বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেন।
ব্যক্তিগত জীবনে তিনি বিবাহিত এবং তিন সন্তানের জনক।