অর্থনৈতিক চাপে ২১ হাজারের বেশি কর্মী ছাঁটাই করছে বিবিসি

যুক্তরাজ্যের শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যম বিবিসি (ব্রিটিশ ব্রডকাস্টিং কর্পোরেশন) ২১ হাজার ৫০০ কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘোষণা দিয়েছে, যা প্রতিষ্ঠানটির মোট কর্মীবাহিনীর প্রায় ১০ শতাংশ। দীর্ঘ এক দশকের বেশি সময় পর এতো বড় পরিসরে ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত নিল সংস্থাটি।

লন্ডনে বিবিসির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বুধবার আয়োজিত এক অল-স্টাফ বৈঠকে এই ঘোষণা দেওয়া হয়। ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ান-এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামী ১৮ মে নতুন মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন ম্যাট ব্রিটিন (ম্যাথিউ জন ব্রিটিন)। তার দায়িত্ব গ্রহণের আগেই এ বড় সিদ্ধান্তের ঘোষণা এলো।

এর আগে ফেব্রুয়ারিতে বিবিসি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, প্রতিষ্ঠানটি তাদের বাজেট থেকে ৬০ কোটি পাউন্ড সাশ্রয়ের লক্ষ্য নিয়েছে। তখনকার মহাপরিচালক টিম ডেভি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে এই লক্ষ্য পূরণে কর্মী ছাঁটাই অনিবার্য হতে পারে।

পরবর্তীতে বিভিন্ন বিতর্কের প্রেক্ষাপটে গত নভেম্বরে পদত্যাগের ঘোষণা দেন টিম ডেভি এবং ২ এপ্রিল আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব ছাড়েন। বর্তমানে অন্তর্বর্তী মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন রদ্রি তালফান ডেভিস। তিনিই সাম্প্রতিক বৈঠকে কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘোষণা দেন।

ঘোষণার পর কর্মীদের পাঠানো এক ইমেইলে তালফান ডেভিস বলেন, বিবিসি বর্তমানে তীব্র অর্থনৈতিক চাপে রয়েছে। তিনি জানান, “আমাদের ব্যয় ও আয়ের মধ্যে ব্যবধান ক্রমেই বাড়ছে। প্রোডাকশন খরচ বেড়েছে, লাইসেন্স ফি ও বাণিজ্যিক আয় চাপের মধ্যে রয়েছে, আর বৈশ্বিক অর্থনীতিও অস্থির।”

তিনি আরও জানান, বর্তমানে বিবিসির বার্ষিক ব্যয় প্রায় ৫০০ কোটি পাউন্ড, যার মধ্যে আগামী দুই বছরে অন্তত ৫০ কোটি পাউন্ড সাশ্রয় করতে হবে। এই পরিস্থিতিতে কর্মীসংখ্যা কমানো ছাড়া বিকল্প নেই বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

এদিকে, যুক্তরাজ্যের সম্প্রচার ও গণমাধ্যম সংশ্লিষ্ট কর্মীদের সংগঠন বেকটু-এর প্রধান ফিলিপ্পা চাইল্ডস এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, “এ ধরনের ব্যাপক কর্মীছাঁটাই শুধু কর্মীদের জন্যই নয়, বিবিসির সামগ্রিক সংবাদ কার্যক্রমের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।”

বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপ, আয়ের উৎসে সংকোচন এবং ব্যয় বৃদ্ধির সম্মিলিত প্রভাবে বিবিসি এই কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে। তবে এর প্রভাব প্রতিষ্ঠানটির সংবাদ পরিবেশন ও মানের ওপর কতটা পড়বে, তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

আরো