অনলাইন সেমিনার ও কর্মশালার সম্মানির হার পুনর্নির্ধারণ করলো সরকার
অনলাইনে (জুম প্ল্যাটফর্মে) আয়োজিত সেমিনার ও কর্মশালার বিভিন্ন খাতে সম্মানির হার পুনর্নির্ধারণ করেছে সরকার। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ ১৬ জুন এ-সংক্রান্ত একটি পরিপত্র জারি করে। নতুন নির্দেশনায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপক, সঞ্চালক, আলোচক, র্যাপোটিয়ার এবং অংশগ্রহণকারীদের জন্য সম্মানির হার বাড়ানো হয়েছে। একই সঙ্গে এ বিষয়ে ২০২১ সালে জারি করা নির্দেশনা বাতিল করা হয়েছে।
নতুন পরিপত্র অনুযায়ী, অনলাইন সেমিনার বা কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপক ৪ হাজার ৫০০ টাকা সম্মানি পাবেন। সঞ্চালক ও আলোচকদের জন্য সম্মানি নির্ধারণ করা হয়েছে জনপ্রতি ৪ হাজার টাকা। আলোচকের সংখ্যা সর্বোচ্চ তিনজন হতে পারবে। র্যাপোটিয়াররা জনপ্রতি ২ হাজার ৫০০ টাকা করে পাবেন এবং এ খাতে সর্বোচ্চ দুইজনকে সম্মানি দেওয়া যাবে। সেমিনার বা কর্মশালার অংশগ্রহণকারীদের জন্য সম্মানি নির্ধারণ করা হয়েছে জনপ্রতি ১ হাজার টাকা।
অর্থ বিভাগের যুগ্মসচিব ড. মো. ফেরদৌস আলমের সই করা পরিপত্রে বলা হয়েছে, জারির তারিখ থেকেই নতুন হার কার্যকর হবে। একই সঙ্গে অনলাইনে (জুম প্ল্যাটফর্মে) আয়োজিত সেমিনার ও কর্মশালার সম্মানির হার নির্ধারণসংক্রান্ত ২০২১ সালের ২৫ আগস্ট জারি করা ২২৯ নম্বর স্মারক বাতিল করা হয়েছ।
বর্তমান সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে কয়েক ধাপের নীতিগত পরিবর্তন। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য বিষয়ভিত্তিক অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণ (ইন-হাউস ট্রেনিং) পরিচালনার সম্মানি ও ভাতার হার সর্বশেষ পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছিল ২০১৯ সালের ২২ মে। সে সময় যুগ্মসচিব ও তদূর্ধ্ব পর্যায়ের কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষক হিসেবে প্রতি ঘণ্টার সেশনের জন্য ২ হাজার ৫০০ টাকা এবং উপসচিব ও তদনিম্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের জন্য ২ হাজার টাকা সম্মানি নির্ধারণ করা হয়।
একই নির্দেশনায় গ্রেড-৯ ও তদূর্ধ্ব পর্যায়ের প্রশিক্ষণার্থীদের জন্য দৈনিক ৬০০ টাকা এবং গ্রেড-১০ ও তদনিম্ন পর্যায়ের কর্মচারীদের জন্য ৫০০ টাকা প্রশিক্ষণ ভাতা নির্ধারণ করা হয়। এছাড়া কোর্স পরিচালক দৈনিক ১ হাজার ৫০০ টাকা, কোর্স সমন্বয়ক ১ হাজার ২০০ টাকা এবং সাপোর্ট স্টাফরা জনপ্রতি ৫০০ টাকা সম্মানি পাওয়ার বিধান রাখা হয়। প্রশিক্ষণার্থীদের জন্য দুই বেলা চা-নাস্তার খরচ বাবদ দৈনিক সর্বোচ্চ ৮০ টাকা এবং দিনব্যাপী প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে দুপুরের খাবারের জন্য জনপ্রতি সর্বোচ্চ ৫০০ টাকা ব্যয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়।
এরপর করোনা মহামারির সময় অনলাইন কার্যক্রম বাড়তে থাকায় অর্থ বিভাগ ২০২১ সালের ৯ আগস্ট পৃথক একটি নির্দেশনা জারি করে। সেখানে বলা হয়, জুম প্ল্যাটফর্ম বা অনলাইনে আয়োজিত ইন-হাউস প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে প্রশিক্ষকরা পূর্ণ হারে সম্মানি পেলেও প্রশিক্ষণার্থীরা নির্ধারিত ভাতার অর্ধেক পাবেন। কোর্স পরিচালক, কোর্স সমন্বয়ক ও সাপোর্ট স্টাফদের সম্মানিও অর্ধেক হারে নির্ধারণ করা হয়। পাশাপাশি অনলাইন প্রশিক্ষণে আপ্যায়ন বাবদ কোনো ব্যয় না করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
একই বছরের ২৫ আগস্ট অর্থ বিভাগ আরেকটি নির্দেশনা জারি করে অনলাইন সেমিনার ও কর্মশালার জন্য সম্মানি দেওয়ার নীতিমালা নির্ধারণ করে। ওই নির্দেশনা অনুযায়ী মূল প্রবন্ধ উপস্থাপক, সঞ্চালক, আলোচক ও র্যাপোটিয়াররা নির্ধারিত হারে সম্মানি পেতেন। তবে অংশগ্রহণকারীদের জন্য সম্মানি নির্ধারণ করা হয়েছিল প্রচলিত হারের অর্ধেক। পাশাপাশি সহায়ক কর্মচারীদের জন্য কোনো সম্মানির ব্যবস্থা রাখা হয়নি।
পাঁচ বছর আগে নির্ধারিত প্রশিক্ষণ ভাতা ও সম্মানির কাঠামো এবং করোনা-পরবর্তী সময়ে জারি করা অনলাইন কার্যক্রমসংক্রান্ত নির্দেশনাগুলোর ধারাবাহিকতায় এবার অনলাইন সেমিনার ও কর্মশালার জন্য পৃথক ও হালনাগাদ সম্মানি কাঠামো নির্ধারণ করলো সরকার।