৬ মার্চেন্ট ব্যাংকের সনদ বাতিল

পর্যাপ্ত সক্ষমতার অভাবসহ নিট মূলধনের শর্ত পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় ছয় মার্চেন্ট ব্যাংকের নিবন্ধন সনদ (রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট) বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন বিধিবিধান পরিপালনে ব্যর্থতা এবং অকার্যকর অবস্থায় পড়ে থাকাসহ নানা অভিযোগ রয়েছে প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে।

এর আগে ওই ছয় প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন সনদ বাতিলের প্রাথমিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বিশেষ তদন্ত করে কমিশন। তদন্ত প্রতিবেদনের সুপারিশের ভিত্তিতে এমন কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। এদিকে নিট মূলধন ঘাটতির কারণ অনুসন্ধানে ইউনিক্যাপ ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেড ও জিএসপি ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের বিরুদ্ধে পৃথক তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি একই বিষয়ে ব্র্যাক ইপিএল ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেডের ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে।

মার্চেন্ট ব্যাংকের আর্থিক সক্ষমতা নিশ্চিত করতে প্রচলিত বিধিমালায় নিট মূলধনসংক্রান্ত ন্যূনতম শর্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (মার্চেন্ট ব্যাংকার ও পোর্টফোলিও ম্যানেজার) বিধিমালা, ১৯৯৬ অনুযায়ী, কোনো মার্চেন্ট ব্যাংকের নিবন্ধনের জন্য তার নিট মূলধন পরিশোধিত মূলধনের কমপক্ষে ৫০ শতাংশ হতে হবে। নিট মূলধন নির্ধারিত সীমার নিচে নেমে গেলে প্রতিষ্ঠানের আর্থিক সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এমন পরিস্থিতিতে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম পর্যালোচনা, ব্যাখ্যা চাওয়া বা প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থা নিতে পারে নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আবুল কালাম বলেছেন, নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্ধারিত আর্থিক সক্ষমতার শর্ত প্রতিটি মার্চেন্ট ব্যাংকের জন্য বাধ্যতামূলক। যেসব প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরে নির্ধারিত নিট মূলধন বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে কমিশন প্রচলিত আইন ও বিধিমালা অনুযায়ী ব্যবস্থা নিচ্ছে। একই সঙ্গে দুটি মার্চেন্ট ব্যাংকের নিট মূলধন ঘাটতির প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্তে কোনো অনিয়ম, গাফিলতি বা বিধি লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরো