আল-মদিনা ফার্মার শেয়ারের উত্থান তদন্তের নির্দেশ

শেয়ারবাজারে এসএমই প্ল্যাটফর্মে ওষুধ ও রসায়ন খাতে তালিকাভুক্ত আল-মদিনা ফার্মাসিউটিক্যালসের শেয়ারের দাম ও লেনদেন অস্বাভাবিক বাড়ার কারণ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

এ বিষয়ে বিস্তারিত তদন্ত শেষে আগামী ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জকে (ডিএসই) পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে কমিশনে।

জানা গেছে, কোনো ধরনের মূল্য সংবেদনশীল তথ্য (পিএসআই) বা ব্যবসায়িক অগ্রগতির ঘোষণা ছাড়াই গত পাঁচ মাসে কোম্পানিটির শেয়ারদর ১৮৫ দশমিক ৫১ শতাংশ বেড়েছে। বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত ১৯ ফেব্রুয়ারি আল-মদিনা ফার্মাসিউটিক্যালসের শেয়ারের দাম ছিল মাত্র ৩৫ দশমিক ৯০ টাকা, যা ৫ জুলাই বেড়ে দাঁড়ায় ১০২ দশমিক ৫০ টাকায়। এই সময়ের মধ্যে শেয়ারপ্রতি দাম বেড়েছে ৬৬ দশমিক ৬০ টাকা।

এমন অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কারণ জানতে চেয়ে গত ৫ জুলাই ডিএসই কোম্পানিটিকে চিঠি দেয়। জবাবে কোম্পানি কর্তৃপক্ষ জানায়, শেয়ারের দাম এভাবে বাড়তে পারে— এমন কোনো অপ্রকাশিত তথ্য তাদের কাছে নেই।

জানতে চাইলে বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আবুল কালাম আগামীর সময়কে জানিয়েছেন, কোম্পানিটির শেয়ারের দাম বাড়া এবং লেনদেনে অস্বাভাবিকতা লক্ষ করে কমিশন। বিষয়টি স্বাভাবিক বলে মনে হচ্ছে না। তাই এর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে ডিএসইকে কোম্পানিটির শেয়ারের দাম ও লেনদেন বাড়ার কারণ তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্তে কোনো অসংগতি পাওয়া গেলে নেওয়া হবে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা।

তদন্তের অংশ হিসেবে কোম্পানিটির শেয়ার নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কোনো সমন্বিত কারসাজি বা অপ্রকাশিত মূল্য সংবেদনশীল তথ্য ব্যবহার করে ইনসাইডার ট্রেডিং হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখবে গঠিত তদন্ত কমিটি। পাশাপাশি স্টক ব্রোকার, ডিলার ও তাদের প্রতিনিধিরা মার্জিন রুলস এবং কমিশনের নির্দেশনা যথাযথভাবে মেনেছেন কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় থাকবে।

বিশেষ করে সন্দেহজনক লেনদেন সম্পাদনে সহায়তা করা বা তা প্রতিরোধে ব্যর্থ হওয়ার ক্ষেত্রে ইউসিবি স্টক ব্রোকারেজ লিমিটেড এবং ইউনাইটেড ফাইন্যান্সিয়াল ট্রেডিং কোম্পানি লিমিটেডের কোনো সম্পৃক্ততা আছে কি না, তা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে।

এ ধরনের সন্দেহজনক লেনদেন বিবেচিত হতে পারে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (স্টক-ডিলার, স্টক-ব্রোকার ও অনুমোদিত প্রতিনিধি) বিধিমালা, ২০০০-এর বিধি ১১ এবং তফসিল-২-এর ধারা ৩৫-এর পরিপন্থী বা লঙ্ঘন হিসেবে।

সংশ্লিষ্টদের ধারণা, শেয়ারের এই অস্বাভাবিক দরবৃদ্ধির পেছনে প্রভাবশালী কারসাজি চক্র জড়িত। তারা কৃত্রিমভাবে দাম বাড়িয়ে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে উচ্চমূল্যে শেয়ার গছিয়ে দিয়ে অনৈতিক মুনাফা লুটতে চাইছে। যেহেতু দাম বাড়ার কোনো যৌক্তিক কারণ নেই, তাই বিএসইসি ও ডিএসইর নিবিড় তদন্তের মাধ্যমে এই কারসাজি ও চক্রকে দ্রুত চিহ্নিত করা জরুরি।

আল-মদিনা ফার্মাসিউটিক্যালস শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হয় ২০২৩ সালে। কোম্পানির পরিশোধিত মূলধন ২০ কোটি ৪০ লাখ টাকা। সে হিসাবে কোম্পানির মোট শেয়ার সংখ্যা ২ কোটি ৪০ লাখ। সর্বশেষ ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত কোম্পানির উদ্যোক্তাদের হাতে ৫৫ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের হাতে ১১ দশমিক ৫৬ শতাংশ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে ৪০ দশমিক ৪৪ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।

আরো