সিলগালা গুদামের ৮৮ টন কীটনাশক উধাও
নীলফামারীর সৈয়দপুরে বিসিক শিল্পনগরী এলাকায় প্রশাসন কর্তৃক সিলগালা করা একটি গোডাউন থেকে জব্দ করা ৮৮ টন নিষিদ্ধ ‘ব্রিফার জি-৫’ (কার্বোফুরান) কীটনাশক চুরির চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। প্রায় দুই বছর আগে আদালত ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হস্তক্ষেপে জব্দ করা এই মালামালের বাজারমূল্য ছিল প্রায় দুই কোটি টাকা।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে গত বুধবার বিকেলে। আদালতের নির্দেশে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদুল হাসান জব্দ করা নিষিদ্ধ কীটনাশকগুলো ধ্বংস করতে বিসিক এলাকার ওই গোডাউনে আসেন। কিন্তু গোডাউনের সিলগালা ভেঙে ভেতরে ঢুকে দেখা যায়, ভেতরের বিপুল পরিমাণ কীটনাশকের বস্তা ও কার্টন গায়েব! সেখানে কেবল ১২৩টি ছেঁড়া-ফাটা প্যাকেট পড়ে রয়েছে। এ ছাড়া অনুসন্ধানে গোডাউনের পেছনের দেয়ালে প্রায় পাঁচ ফুটের মতো অংশে নতুন প্লাস্টারের চিহ্ন দেখা গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, দেয়ালে সিঁধ কেটে বা দেয়াল ভেঙে মালামালগুলো সরিয়ে ফেলা হয়েছে।
২০২৪ সালের ২৫ জুন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কৃষি বিভাগ, র্যাব-১৩, উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশের যৌথ অভিযানে এই গোডাউন থেকে নিষিদ্ধ এসিআই কোম্পানির ৮৮ টন কার্বোফুরান উদ্ধার করা হয়। এটি অন্য জেলায় পাচারের চেষ্টা করা হচ্ছিল। পরে গোডাউনটি সিলগালা করে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ধীমান ভূষণ বাদী হয়ে মামলা করেন এবং চাবি নিজের জিম্মায় নেন। মানবস্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর হওয়ায় ২০১৬ সালে জাতিসংঘ কীটনাশকটি নিষিদ্ধের আহ্বান জানালে বাংলাদেশসহ ৮৮টি দেশে এটি নিষিদ্ধ করা হয়।
ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কীটনাশক ধ্বংস কার্যক্রম স্থগিত রেখে অবশিষ্টাংশ বিসিক শিল্পনগরী কর্মকর্তা মশিউর রহমানের জিম্মায় দিয়ে ফিরে যান।
সৈয়দপুর বিসিকের কর্মকর্তা মশিউর রহমান জানান, তিনি নিয়মিত বাইরের সিলগালা পরীক্ষা করতেন, যা অক্ষত ছিল। তবে পেছনের দেয়ালে নতুন প্লাস্টারের স্থানটি দেখে মনে হচ্ছে সেখান দিয়েই মালামাল সরানো হয়েছে। অন্যদিকে মামলার বাদী ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ধীমান ভূষণ বলেন, ‘কীভাবে মালামাল উধাও হলো, তা আদালত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।’
সৈয়দপুর থানার ওসি রেজাউল করিম রেজা সিলগালা ভেঙে ভেতরের বিপুল মালামাল না পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
কীটনাশকের মালিক মনোয়ার হোসেন সরকার বলেন, ‘ আমাকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছিল। এরপর পুলিশের নিষেধ থাকায় আমি বিসিক এলাকায় যাইনি। সিলগালা করা গোডাউন থেকে কীভাবে মালামাল চুরি হলো, আমি জানি না। আমি তদন্তের মাধ্যমে মালামাল উদ্ধারের দাবি জানাচ্ছি।’