নতুন মূলধনে আইপিও, পুরোনো শেয়ারে ডাইরেক্ট লিস্টিং

দেশের পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হতে আগ্রহী কোম্পানিগুলোর জন্য আইপিও ও ডাইরেক্ট লিস্টিং- দুটি পৃথক পথের সুযোগ তৈরি করছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। নতুন মূলধন সংগ্রহে আগ্রহী কোম্পানিগুলোকে বিদ্যমান বিধিমালা অনুসরণ করে আইপিওর মাধ্যমে বাজারে আসার জন্য উৎসাহিত করছে কমিশন। অন্যদিকে, যেসব প্রতিষ্ঠিত কোম্পানির নতুন মূলধনের প্রয়োজন নেই, তবে বিদ্যমান শেয়ারধারীদের শেয়ার অফলোডের মাধ্যমে তালিকাভুক্ত হওয়ার আগ্রহ রয়েছে, তাদের জন্য ডাইরেক্ট লিস্টিংয়ের সুযোগ তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে কমিশন।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. আবুল কালাম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বর্তমানে যেসব কোম্পানি আইপিওর মাধ্যমে পুঁজিবাজার থেকে মূলধন সংগ্রহ করতে আগ্রহী, তাদের ‘বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (পাবলিক অফার অব ইকুইটি সিকিউরিটিজ) রুলস ২০২৫’ অনুসরণ করে আবেদন করতে হবে। আইপিও প্রক্রিয়ায় ইতোমধ্যে আবেদনকারী অথবা আবেদন করতে ইচ্ছুক কোম্পানিগুলোর বিধিমালার ভবিষ্যৎ সংস্কার বা প্রয়োজনীয় পরিবর্তনের কারণে আবেদন স্থগিত বা বিলম্বিত করার প্রয়োজন নেই।

কমিশন বলছে, পরবর্তীতে আইপিও-সংক্রান্ত বিধিমালায় কোনো সংস্কার, পরিবর্তন বা শিথিলতা আনা হলে প্রযোজ্য ক্ষেত্রে বর্তমানে আবেদনকারী কোম্পানিগুলোকে ওই সংস্কার, পরিবর্তন বা শিথিলতার আওতায় এনে প্রয়োজনীয় সুবিধা দেওয়া হবে।

অন্যদিকে, যেসব প্রতিষ্ঠিত কোম্পানির ব্যবসা সম্প্রসারণ বা পরিচালনার জন্য নতুন মূলধন সংগ্রহের প্রয়োজন নেই, কিন্তু বিদ্যমান শেয়ারধারীদের শেয়ার অফলোডের মাধ্যমে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার আগ্রহ রয়েছে, তাদের জন্য ডাইরেক্ট লিস্টিং একটি বিকল্প সুযোগ তৈরি করতে পারে।

এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ

২ ঘণ্টায় ২৭৫ কোটি টাকার লেনদেন

শীর্ষ ব্রোকারেজ কোম্পানির সঙ্গে ডিএসইর বৈঠক

লেনদেনের শীর্ষে আইপিডিসি ফাইন্যান্স

প্রস্তাবিত ডাইরেক্ট লিস্টিং ব্যবস্থায় কোম্পানি নিজে নতুন শেয়ার ইস্যু না করে বা জনসাধারণের কাছ থেকে নতুন মূলধন সংগ্রহ না করে, বিদ্যমান শেয়ারধারীদের হাতে থাকা শেয়ার অফলোডের মাধ্যমে স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত হতে পারবে।

এ লক্ষ্যে বিএসইসি ইতোমধ্যে ‘বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (পাবলিক অফার অব ইকুইটি সিকিউরিটিজ) রুলস ২০২৬’-এর খসড়া প্রণয়ন করেছে। জনমত আহ্বানের জন্য খসড়াটি প্রকাশও করা হয়েছে। প্রস্তাবিত বিধিমালা অনুযায়ী, নির্দিষ্ট যোগ্যতার অধিকারী কোম্পানিগুলো ডাইরেক্ট লিস্টিংয়ের জন্য আবেদন করতে পারবে।

বিএসইসির মতে, প্রস্তাবিত ডাইরেক্ট লিস্টিং কাঠামোর মাধ্যমে পুঁজিবাজারে নতুন ও সক্ষম কোম্পানির অংশগ্রহণ বাড়ানো, বিদ্যমান শেয়ারধারীদের শেয়ার অফলোডের সুযোগ সৃষ্টি এবং বাজারের গভীরতা ও পরিধি সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

কমিশন জানিয়েছে, ‘বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (পাবলিক অফার অব ইকুইটি সিকিউরিটিজ) রুলস ২০২৬’ অতি শিগগির গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে কার্যকর হবে। এ কারণে প্রস্তাবিত ডাইরেক্ট লিস্টিং কাঠামোর আওতাভুক্ত এবং পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তিতে আগ্রহী কোম্পানিগুলোকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে উৎসাহিত করছে বিএসইসি।

বিএসইসি বলছে, কোম্পানিগুলোর বৈশিষ্ট্য ও প্রয়োজন অনুযায়ী তালিকাভুক্তির সুযোগ বিস্তৃত করার পাশাপাশি দেশের পুঁজিবাজারে ভালো ও সক্ষম কোম্পানির অংশগ্রহণ বাড়াতে প্রয়োজনীয় নীতিগত ও নিয়ন্ত্রক সংস্কার কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে কমিশন।

[atn_photocard]
আরো