আইডিএলসির ঋণে সুদের হার ৪% থেকে ১২.১০%, অতিরিক্ত ৩.৫৬ লাখ টাকা দেওয়ার শঙ্কায় নারী উদ্যোক্তা

ব্যবসা সম্প্রসারণের জন্য ২০২৩ সালে আইডিএলসি ফাইন্যান্স থেকে ২০ লাখ টাকা এসএমই ঋণ নিয়েছিলেন এক নারী উদ্যোক্তা। তাঁর অভিযোগ, ঋণ নেওয়ার সময় সুদের হার ৪ শতাংশ জানানো হলেও পরে তা বেড়ে ১২.১০ শতাংশ হয়েছে। ঋণ পরিশোধ করে হিসাব চূড়ান্ত করতে গিয়ে এখন অতিরিক্ত প্রায় ৩ লাখ ৫৬ হাজার টাকা পরিশোধের শঙ্কায় পড়েছেন তিনি।

ওই নারী উদ্যোক্তার দাবি, ২০১৬ সাল থেকে তিনি বিউটি ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করছেন। ব্যবসা সম্প্রসারণের লক্ষ্যেই আইডিএলসি ফাইন্যান্স থেকে ঋণ নেন। সম্প্রতি ঋণের হিসাব পর্যালোচনা করতে গিয়ে সুদের হারের পরিবর্তনের বিষয়টি জানতে পারেন বলে জানান তিনি।

এ বিষয়ে আইডিএলসির সঙ্গে যোগাযোগ করলে সংশ্লিষ্ট রিলেশনশিপ ম্যানেজার তাঁকে জানান, সুদের হার পরিবর্তনের বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত ছিলেন না—এমনটাই দাবি উদ্যোক্তার। অন্যদিকে, আইডিএলসির সাভার শাখা থেকে তাঁকে জানানো হয়েছে, সুদের হার পরিবর্তনের বিষয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছিল। তবে প্রায় দুই বছর আগের সেই চিঠির কথা তাঁর মনে নেই বলে জানান ওই উদ্যোক্তা।

তাঁর প্রশ্ন, ঋণের সুদের হার পরিবর্তনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে শুধু চিঠি পাঠানোই কি যথেষ্ট? গ্রাহক পরিবর্তিত শর্ত সম্পর্কে অবগত হয়েছেন কি না, তা নিশ্চিত করার কার্যকর ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।

উদ্যোক্তার অভিযোগ, গত দুই বছর ধরে মাসিক ৫৯ হাজার ৪৮ টাকা করে কিস্তি পরিশোধ করা হলেও ঋণের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। এ বিষয়ে গত ১২ অক্টোবর আইডিএলসি কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ জানান তিনি। ১৯ অক্টোবর পর্যন্ত তাঁকে জানানো হয়েছে, সংশ্লিষ্ট বিভাগ বিষয়টি যাচাই করছে এবং পরে হালনাগাদ তথ্য জানানো হবে।

এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ

সূচকের পতনে বেড়েছে লেনদেন

আইডিআরএর নতুন আইন সদস্য সফিকুল ইসলাম

এর আগে সিটি ব্যাংক থেকে ১৫ লাখ টাকা ঋণ নেওয়ার অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে ওই উদ্যোক্তা জানান, সেখানে সুদের হার ছিল ৫ শতাংশ এবং তিনি ঋণটি পরিশোধ করেছেন। তাঁর দাবি, নিয়মিত লেনদেনের কারণে সেখান থেকে ১ শতাংশ সুদও ফেরত পেয়েছেন।

বর্তমান পরিস্থিতিতে আইডিএলসি ফাইন্যান্সের কাছে ঋণের পূর্ণাঙ্গ হিসাব, সুদের হার পরিবর্তনের শর্ত এবং অতিরিক্ত অর্থ দাবির যৌক্তিকতা স্বচ্ছভাবে ব্যাখ্যা করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে বিষয়টি ন্যায্যভাবে পর্যালোচনা করে দ্রুত সমাধানের দাবি জানিয়েছেন।

এ ঘটনায় সাভারের সংসদ সদস্য দেওয়ান মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন বাবুর সহযোগিতা চেয়েছেন ওই নারী উদ্যোক্তা। পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে বিষয়টি তদন্ত করে দেখার আবেদন জানিয়েছেন তিনি।

উদ্যোক্তার ভাষ্য, তিনি কোনো বিশেষ সুবিধা চান না; বরং ঋণের হিসাবের স্বচ্ছতা, ন্যায্য পর্যালোচনা এবং দ্রুত একটি গ্রহণযোগ্য সমাধান চান। একই সঙ্গে অন্য উদ্যোক্তাদের ঋণ নেওয়ার আগে সুদের হার, তা পরিবর্তনের শর্ত এবং মোট পরিশোধযোগ্য অর্থ সম্পর্কে বিস্তারিত যাচাই করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

এ বিষয়ে আইডিএলসি ফাইন্যান্সের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা আসিফের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে সুদের হার পরিবর্তন, ঋণের মেয়াদ বৃদ্ধি এবং অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধের অভিযোগের বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

তবে নারী উদ্যোক্তার অভিযোগের স্বাধীন যাচাই, ঋণের চুক্তিপত্র ও হিসাব পর্যালোচনা এবং আইডিএলসি ফাইন্যান্সের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে অভিযোগের প্রকৃত অবস্থা আরও স্পষ্ট হবে।

[atn_photocard]
আরো