ট্রাস্ট ইসলামী লাইফের আর্থিক অবস্থায় অবনতি, নয় মাসে ঘাটতি ৩০ লাখ টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক: চলতি বছরের প্রথম নয় মাসের অনিরীক্ষিত আর্থিক হিসাবে আয় ও ব্যয়ের চিত্রে অবনতি দেখা গেছে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত বিমা খাতের প্রতিষ্ঠান ট্রাস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের। প্রতিষ্ঠানটি বছরের প্রথম দুই প্রান্তিকে আয় থেকে ব্যয় ও বিমা দাবি পরিশোধের অর্থ বাদ দেওয়ার পর উদ্বৃত্ত থাকলেও তৃতীয় প্রান্তিকে ঘাটতির মুখে পড়েছে। বিশেষ করে জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন মাসে আয় ও ব্যয়ের ব্যবধান নেতিবাচক হয়ে দাঁড়িয়েছে ৬৫ লাখ ১০ হাজার টাকা। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

কোম্পানিটির প্রকাশিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত প্রথম প্রান্তিকে জীবন বিমা রাজস্ব হিসাবে মোট আয় থেকে সব ধরনের ব্যয় ও বিমা দাবি বাদ দেওয়ার পর উদ্বৃত্ত ছিল ১৫ লাখ টাকা। আগের বছরের একই সময়ে এই উদ্বৃত্তের পরিমাণ ছিল ৪ লাখ ১০ হাজার টাকা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে প্রথম প্রান্তিকে উদ্বৃত্তের পরিমাণ বেড়েছে।

এদিকে, ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ শেষে কোম্পানিটির জীবন বিমা তহবিলের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৪৩ কোটি ৯৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা। ২০২৫ সালের ৩১ মার্চ শেষে এই তহবিলের পরিমাণ ছিল ৩৭ কোটি ৪৪ লাখ ২০ হাজার টাকা। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে জীবন বিমা তহবিল বেড়েছে ৬ কোটি ৫১ লাখ ৩০ হাজার টাকা।

অন্যদিকে, বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে অর্থাৎ এপ্রিল থেকে জুন ২০২৬ সময়ে কোম্পানিটির জীবন বিমা রাজস্ব হিসাবে আয় থেকে ব্যয় ও বিমা দাবি বাদ দেওয়ার পর উদ্বৃত্ত হয়েছে ১৯ লাখ ৯০ হাজার টাকা। আগের বছরের একই সময়ে এই উদ্বৃত্ত ছিল ১ কোটি ৯৪ লাখ ২০ হাজার টাকা। অর্থাৎ দ্বিতীয় প্রান্তিকে আগের বছরের তুলনায় উদ্বৃত্তের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।

তবে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ছয় মাসের হিসাবে কোম্পানিটির মোট আয় থেকে ব্যয় ও বিমা দাবি বাদ দেওয়ার পর উদ্বৃত্ত দাঁড়িয়েছে ৩৪ লাখ ৯০ হাজার টাকা। আগের বছরের একই সময়ে এই উদ্বৃত্তের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৯৮ লাখ ২০ হাজার টাকা। ফলে ছয় মাসের হিসাবে আগের বছরের তুলনায় উদ্বৃত্ত উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।

এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ

২০২৬ সালের ৩০ জুন শেষে কোম্পানিটির জীবন বিমা তহবিলের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৪৪ কোটি ১৫ লাখ ৪০ হাজার টাকা। আগের বছরের একই তারিখে এই তহবিলের পরিমাণ ছিল ৩৯ কোটি ৩৮ লাখ ৪০ হাজার টাকা। সেই হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে জীবন বিমা তহবিল বেড়েছে ৪ কোটি ৭৭ লাখ টাকা।

এদিকে, চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে কোম্পানিটির আর্থিক পরিস্থিতিতে আরও অবনতি হয়েছে। ২০২৬ সালের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন মাসের জীবন বিমা রাজস্ব হিসাবে মোট আয় থেকে ব্যয় ও বিমা দাবি বাদ দেওয়ার পরিবর্তে ব্যয় ও বিমা দাবি মোট আয়ের চেয়ে বেশি হয়েছে। এতে এই সময়ে ৬৫ লাখ ১০ হাজার টাকা ঘাটতি তৈরি হয়েছে। আগের বছরের একই সময়ে এই ঘাটতির পরিমাণ ছিল ৭ লাখ ৪০ হাজার টাকা।

একইভাবে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নয় মাসের হিসাবেও কোম্পানিটি ঘাটতির মুখে পড়েছে। এ সময়ে মোট ব্যয় ও বিমা দাবি মোট আয়ের চেয়ে ৩০ লাখ ২০ হাজার টাকা বেশি হয়েছে। অথচ আগের বছরের একই সময়ে কোম্পানিটির আয় থেকে ব্যয় ও বিমা দাবি বাদ দেওয়ার পর ১ কোটি ৯০ লাখ ৮০ হাজার টাকা উদ্বৃত্ত ছিল। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে নয় মাসের আর্থিক অবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন হয়েছে। উদ্বৃত্ত থেকে ঘাটতিতে চলে গেছে প্রতিষ্ঠানটি।

তবে ঘাটতির মধ্যেও কোম্পানিটির জীবন বিমা তহবিলের স্থিতি বেড়েছে। ২০২৬ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর শেষে জীবন বিমা তহবিলের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪৪ কোটি ৩৪ লাখ ১০ হাজার টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর শেষে এই তহবিলের স্থিতি ছিল ৩৯ কোটি ৩১ লাখ টাকা। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে জীবন বিমা তহবিল বেড়েছে ৫ কোটি ৩ লাখ ১০ হাজার টাকা।

কোম্পানিটির প্রকাশিত প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় প্রান্তিকের আর্থিক প্রতিবেদনগুলো অনিরীক্ষিত।

[atn_photocard]
আরো