‘দৈনিক উত্তর কোণ’ পত্রিকার ডিক্লারেশন বাতিলের আবেদন

ঢাকার জেলা প্রশাসক (ডিসি) নিয়োগে আর্থিক লেনদেনসংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশের জেরে বগুড়া থেকে প্রকাশিত ‘দৈনিক উত্তর কোণ’ পত্রিকার ডিক্লারেশন বাতিলের আবেদন করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে বগুড়ার জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমানের কাছে এই আবেদন করেন স্থানীয় দুই যুবক।

আবেদনকারী দুজন হলেন, বগুড়া শহরের চারমাথা ভবের বাজার এলাকার বাসিন্দা আবুল কালাম আজাদ এবং শিবগঞ্জ উপজেলার আলী গ্রাম এলাকার আনোয়ারুল ইসলাম সুমন। তারা পত্রিকাটিতে প্রকাশিত সংবাদটিকে ‘ভুয়া, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ দাবি করে এই পদক্ষেপ নিয়েছেন।

দৈনিক উত্তর কোন পত্রিকার প্রকাশক বিএনপির সাবেক এমপি ও কেন্দ্রীয় কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক হেলালুজ্জামান তালুকদার লালু। পত্রিকাটির সম্পাদকের দায়িত্বে আছেন হেলালুজ্জামান তালুকদার লালুর ছেলে সাহেদুজ্জামান সিরাজ বিজয়।

পৃথক আবেদনে তারা উল্লেখ করেছেন, গত ২৯ এপ্রিল দৈনিক উত্তরকোণ পত্রিকার প্রথম পাতায় ‘ঢাকায় জেলা প্রশাসক নিয়োগের ৩৩ কোটি টাকা লেনদেন একই সিন্ডিকেট জড়িত’ শীর্ষক একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। ওই সংবাদে দেশের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উপস্থাপন করা হলেও এতে কোনো প্রামাণ্য তথ্য নির্ভরযোগ্য সূত্র বা উপযুক্ত রেফারেন্স উল্লেখ করা হয়নি। প্রকাশিত সংবাদটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও বিভ্রান্তিকর, যা সাধারণ জনগণের মাঝে গুজব ও বিভ্রান্তি সৃষ্টির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। যা জনশৃঙ্খলা ও রাষ্ট্রের ভাবমূর্তির জন্য ক্ষতিকর। এই ধরনের কাজ প্রচলিত আইন ও নীতিমালার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। অতএব বিষয়টি গুরুত্ব বিবেচনা করে ওই পত্রিকার ডিক্লারেশন বাতিলসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করছি।

এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ

এর আগে, ২৯ এপ্রিল নয় ২৭ এপ্রিল ওই পত্রিকার ‘ঢাকার ডিসি নিয়োগে ৩০ কোটি টাকা লেনদেন, একই সিন্ডিকেট জড়িত’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়। ওই সংবাদে উল্লেখ করা হয়, ‘নতুন বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসতে না আসতেই একের পর এক সমালোচনা ও বিতর্কে জড়াচ্ছে এবং এ ধরনের প্রায় প্রতিটি ঘটনার সঙ্গে সেই একই শক্তিশালী সিন্ডিকেট সরাসরিভাবে জড়িত রয়েছে। এতে সরকারের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হচ্ছে। সর্বশেষ, ঢাকার জেলা প্রশাসক পদে বহুল আলোচিত, বিতর্কিত, শীর্ষ দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা ফরিদা খানমের নিয়োগ নিয়ে এখন ব্যাপক তোলপাড় চলছে। চট্টগ্রামের ডিসি থাকাকালে ব্যাপক দুর্নীতি-অনিয়ম নিয়ে তার বিরুদ্ধে দুদকের তদন্তও চলছিল। দুদকের প্রাথমিক তদন্তে ফরিদা খানমের গুরুতর অনিয়ম-দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া গেছে এবং দুদকের পক্ষ থেকে তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়েছে। আনুষ্ঠানিকভাবে তদন্তের কাজও শুরু করেছেন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। এরমধ্যেই তাকে সবচেয়ে আকর্ষণীয় পদ, ঢাকার ডিসি পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, প্রশাসন ক্যাডারের বর্তমান সময়ের আলোচিত দুর্নীতিবাজ এই নারী কর্মকর্তাকে ঢাকার ডিসি পদে নিয়োগে প্রভাব খাটিয়েছে ওই একই সিন্ডিকেট।Geographic Reference

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সামনে এ সংক্রান্ত সঠিক তথ্য তুলে ধরা হয়নি। প্রধানমন্ত্রীকে ভুল বুঝিয়ে রাজি করানো হয়েছে। এর নেপথ্যে রয়েছে সিন্ডিকেটের ৩০ কোটি টাকার লেনদেন। সিন্ডিকেটে রয়েছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী, মুখ্যসচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার এবং প্রধানমন্ত্রীর পিএস মিঞা মুহাম্মদ আশরাফ রেজা ফরিদী। এছাড়া বহুল আলোচিত ও ‘সুপার পাওয়ারফুল’ বলে পরিচিত স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী তো রয়েছেনই। এই সিন্ডিকেটের একজনের আপন মেয়ের জামাই, জুডিশিয়াল ক্যাডারের সদস্য, বর্তমানে যিনি আইন মন্ত্রণালয়ে উপসচিব পদে আছেন- তার মাধ্যমেই এই টাকার লেনদেন হয়েছে বলে নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে।

আবেদনকারী আনোয়ারুল ইসলাম সুমন বলেন, আমি একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে এই আবেদন জানিয়েছি। নিউজটি পড়ে আমার কাছে ভুয়া ও মিথ্যা বলে মনে হয়েছে। এতে প্রধানমন্ত্রী, সরকার দল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে আমি করি।

মামলার পরিবর্তে পত্রিকার ডিক্লারেশন বাতিলের আবেদন করলেন কে? এমন প্রশ্নের উত্তরে বলেন, বিষয়টি নিয়ে আদালতেও মামলা করা হবে।

এ বিষয়ে জানতে দৈনিক উত্তর কোন পত্রিকার সম্পাদক সাহেদুজ্জামান সিরাজ বিজয়ের মুঠোফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

এ ব্যাপারে বগুড়ার জেলা প্রশাসকের দায়িত্বে থাকা স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক রাজিয়া সুলতানা বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে বলতে হবে।

আরো