আইএফআইসি ইনভেস্টমেন্টের কার্যক্রমে বিএসইসির বিশেষ পরিদর্শন
মার্চেন্ট ব্যাংক আইএফআইসি ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের সার্বিক কার্যক্রমে অসংগতি খতিয়ে দেখতে বিশেষ পরিদর্শনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষায় এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পরিদর্শনে অনিয়মের প্রমাণ মিললে তদন্ত করা হতে পারে।
এ লক্ষ্যে দুই সদস্যের একটি পরিদর্শন কমিটি গঠন করেছে কমিশন। সম্প্রতি বিএসইসির মার্কেট ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন বিভাগ এ-সংক্রান্ত আদেশ জারি করেছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আবুল কালাম। কমিটিতে রয়েছেন বিএসইসির অতিরিক্ত পরিচালক মুস্তারি জাহান এবং সহকারী পরিচালক মো. মারুফ হাসান।
বিএসইসির আদেশে বলা হয়েছে, সাধারণ বিনিয়োগকারীদের বৃহত্তর স্বার্থে আইএফআইসি ইনভেস্টমেন্টের বিভিন্ন কার্যক্রম পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (মার্চেন্ট ব্যাংকার ও পোর্টফোলিও ম্যানেজার) বিধিমালা, ১৯৯৬-এর বিধি ৩২ অনুযায়ী গঠিত কমিটিকে আদেশ জারির তারিখ থেকে ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে পরিদর্শন শেষ করে কমিশনে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
পরিদর্শনে আইএফআইসি ইনভেস্টমেন্টের মার্চেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রম, হিসাবপত্র, রেকর্ড সংরক্ষণ ব্যবস্থা এবং গ্রাহক অভিযোগ পর্যালোচনা করা হবে। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ গ্রাহকদের লেনদেন, ব্লক ট্রেড, সংশ্লিষ্ট পক্ষের (রিলেটেড পার্টি) লেনদেন এবং নগদ ও ব্যাংকিং লেনদেনও খতিয়ে দেখা হবে।
এসব লেনদেনে কোনো অনিয়ম, স্বার্থের সংঘাত বা সিকিউরিটিজ আইনবিরোধী কার্যক্রম রয়েছে কি না, তা যাচাই করবে পরিদর্শন দল। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের বর্তমান ব্যবসায়িক অবস্থা মূল্যায়নের পাশাপাশি সিকিউরিটিজ আইন, বিধিবিধান ও নিয়ন্ত্রক নির্দেশনা লঙ্ঘনের কোনো ঘটনা ঘটেছে কি না, সেটিও অনুসন্ধান করা হবে। পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের ভূমিকা এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ও কমপ্লায়েন্স কর্মকর্তার দায়িত্ব পালনের কার্যকারিতাও মূল্যায়নের আওতায় থাকবে।
শুধু ব্যবসায়িক কার্যক্রম নয়, প্রতিষ্ঠানের অ্যান্টি মানি লন্ডারিং (এএমএল) এবং কমব্যাটিং দ্য ফাইন্যান্সিং অব টেররিজম (সিএফটি) ব্যবস্থাও কঠোরভাবে যাচাই করা হবে। এ জন্য ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত এএমএল ও সিএফটি সিস্টেম চেক ইনস্পেকশন পরিচালনা করবে পরিদর্শন দল। এতে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ বিধিমালা, ২০১৯ অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, গ্রাহক যাচাইকরণ, সন্দেহজনক লেনদেন পর্যবেক্ষণ এবং নিয়ন্ত্রক পরিপালনের বিষয়গুলো মূল্যায়ন করা হবে।
সম্প্রতি শেয়ারবাজারের বিভিন্ন মার্চেন্ট ব্যাংক, ব্রোকারেজ হাউস ও অন্যান্য বাজার মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠানের ওপর নজরদারি জোরদার করেছে বিএসইসি। এর ধারাবাহিকতায় আইএফআইসি ইনভেস্টমেন্টের কার্যক্রমে এ বিশেষ পরিদর্শনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পরিদর্শন প্রতিবেদনে অনিয়ম বা বিধি লঙ্ঘনের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে কমিশন।
বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, বিএসইসির এ উদ্যোগ ইতিবাচক। তাদের ভাষ্য, আইএফআইসি ইনভেস্টমেন্টের মতো প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমে নজরদারি বাড়লে শেয়ারবাজারে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত হবে। বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে এমন পদক্ষেপ জরুরি। তদন্তে অনিয়ম প্রমাণিত হলে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হলে তা অন্যান্য বাজার মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠানকেও সতর্ক করবে এবং বাজারে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।