অগ্রণী ব্যাংকে জালিয়াতি, প্রশ্নে ব্যবস্থাপনা

রাষ্ট্রায়ত্ত অগ্রণী ব্যাংকের বিভিন্ন শাখায় একের পর এক জালিয়াতি, অর্থ আত্মসাৎ, ভল্ট থেকে টাকা সরিয়ে নেওয়া এবং লকারের স্বর্ণালংকার নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এসব ঘটনায় ব্যাংকটির শাখা পর্যায়ের নিরাপত্তা, অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ও তদারকি ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন গ্রাহকরা।

ব্যাংকের বিভিন্ন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, নীলফামারীর সৈয়দপুর, পাবনার কাশিনাথপুর, চাঁদপুরের ছেংগারচর বাজার, চট্টগ্রামের লালদিঘী পূর্ব করপোরেট ও মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর শাখায় বড় অঙ্কের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ সামনে এসেছে। এর বাইরে আরও কয়েকটি শাখায় অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে।

এসব ঘটনার কয়েকটি তদন্তাধীন। কোনো কোনো ঘটনায় মামলা ও গ্রেপ্তারও হয়েছে। ব্যাংক সূত্রের অভিযোগ, দুর্বল ব্যবস্থাপনা, পর্যাপ্ত তদারকির অভাব এবং অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণের দুর্বলতার সুযোগে এসব ঘটনা ঘটেছে।

এসব ঘটনার সময় ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ছিলেন মো. আনোয়ারুল ইসলাম। তিনি গত ২ সেপ্টেম্বর এমডির পদ থেকে পদত্যাগ করেন।

সৈয়দপুরে প্রায় ৬৬ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ
অগ্রণী ব্যাংকের বিভিন্ন শাখার মধ্যে নীলফামারীর সৈয়দপুর শাখায় সবচেয়ে বড় অঙ্কের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। তদন্ত সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, শাখাটির সিনিয়র অফিসার আলিমুল আল রাজি তমালের বিরুদ্ধে জালিয়াতির মাধ্যমে প্রায় ৬৬ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় তিনি বর্তমানে পলাতক রয়েছেন বলে জানা গেছে।

তদন্তে উঠে এসেছে, তমাল সিএনজি লেজারে মোট ১৩২ কোটি ২৬ লাখ ২২ হাজার ৯৮১ টাকার ডেবিট ও ক্রেডিট—উভয় ধরনের ভুয়া লেনদেন সৃষ্টি করেন।

এর মধ্যে ২০২৫ সালের ৩ ডিসেম্বর ৩০ কোটি টাকা এবং ২৮ ডিসেম্বর ৭ কোটি ৭ লাখ ৩৪ হাজার ৮১১ টাকা সিএনজি লেজারে ভুক্তি দেন তিনি। এছাড়া ৬ ডিসেম্বর ইস্যু করা ৫ কোটি ৭৮ লাখ ৩৪ হাজার ৮১১ টাকার একটি আইবিডিএ চেক কালেকশন না করে ড্রয়ারে রেখে দেওয়া হয়।

ফলে ৩০ কোটি, ৭ কোটি ৭ লাখ ৩৪ হাজার ৮১১ টাকা এবং ৫ কোটি ৭৮ লাখ ৩৪ হাজার ৮১১ টাকা—এই তিনটি অঙ্ক মিলিয়ে মোট ৪২ কোটি ৮৫ লাখ ৬৯ হাজার ৬২২ টাকার হিসাববহির্ভূত স্থিতি তৈরি হয়। এই অর্থ সমন্বয় করা সম্ভব না হওয়ায় তদন্তে পুরো অর্থ আত্মসাৎ হয়েছে বলে প্রমাণ পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এর বাইরে বিভিন্ন ভাউচারের মাধ্যমে আরও প্রায় ২৪ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে।

সব মিলিয়ে সৈয়দপুর শাখায় আত্মসাতের পরিমাণ প্রায় ৬৬ কোটি টাকা বলে তদন্ত সূত্রে জানা গেছে।

কাশিনাথপুরে ভল্ট থেকে ১০ কোটি টাকা
অগ্রণী ব্যাংকের পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার কাশিনাথপুর শাখায় ভল্ট থেকে ১০ কোটি ১৩ লাখ ৬২ হাজার ৩৭৮ টাকা আত্মসাতের ঘটনা সামনে আসে।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অগ্রণী ব্যাংকের রাজশাহী বিভাগীয় ও পাবনা আঞ্চলিক কার্যালয়ের পাঁচ কর্মকর্তা আকস্মিক অডিটে গেলে শাখাটিতে বড় ধরনের আর্থিক অনিয়ম ধরা পড়ে।

পরে অডিট কর্মকর্তারা বিষয়টি সাঁথিয়া থানায় জানান। এ ঘটনায় শাখার তিন কর্মকর্তা—প্রিন্সিপ্যাল অফিসার আবু জাফর, ব্যবস্থাপক হারুন বিন সালাম এবং ক্যাশিয়ার সুব্রত চক্রবর্তীকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে।

ছেংগারচর বাজার শাখা থেকে ৭৫ লাখ টাকা উধাও
চাঁদপুরের মতলব উত্তরের ছেংগারচর বাজার শাখায় ভল্ট থেকে ৭৫ লাখ ২০ হাজার টাকা নিয়ে উধাও হওয়ার অভিযোগ ওঠে ক্যাশ কর্মকর্তা দীপঙ্কর ঘোষের বিরুদ্ধে।

ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন সন্ধ্যায় শাখার ভল্টে ১ কোটি ২ লাখ টাকা জমা রাখা হয়। ভল্টের চাবি ছিল ক্যাশ কর্মকর্তা দীপঙ্করের কাছে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি সেখান থেকে ৭৫ লাখ ২০ হাজার টাকা নিয়ে বাসায় চলে যান। পরে বাসায় তালা দিয়ে কাউকে কিছু না জানিয়ে চলে যান তিনি।

পরদিন ব্যাংকের কর্মকর্তারা এসে ভল্টে টাকা না পাওয়ার বিষয়টি জানতে পারেন। এরপর দীপঙ্করের আর কোনো হদিস পাওয়া যায়নি।

এ ঘটনায় শাখা ব্যবস্থাপক মো. ইউসুফ মিয়া মতলব উত্তর থানায় মামলা করেন। ঘটনাটি তদন্তে অগ্রণী ব্যাংকের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে চার সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়।

চট্টগ্রামে ভল্ট থেকে ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ
চট্টগ্রাম নগরীর লালদিঘী পূর্ব করপোরেট শাখায় ভল্ট থেকে ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, হাজার টাকার নোটের বান্ডেলের মধ্যে একশ বা ছোট মূল্যমানের নোট রেখে ভল্ট থেকে বড় অঙ্কের টাকা সরিয়ে নেওয়া হয়।

এ ঘটনায় ব্যাংক কর্তৃপক্ষ শাখার এক কর্মকর্তাসহ দুজনকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছে।

শ্রীনগরে ১৪ হিসাব থেকে ২ কোটি ২৭ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ
চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগরে অগ্রণী ব্যাংকের একটি শাখা থেকেও গ্রাহকদের অন্তত ১৪টি হিসাবের ২ কোটি ২৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে।

গ্রাহকদের হিসাব থেকে এই অর্থ আত্মসাতের অভিযোগটি অগ্রণী ব্যাংকের বিভিন্ন শাখায় সামনে আসা অনিয়মের তালিকায় নতুন করে যুক্ত হয়েছে।

লকার থেকে প্রায় ২ কোটি ৯০ লাখ টাকার স্বর্ণালংকার সরানোর অভিযোগ
অগ্রণী ব্যাংকের রমনা করপোরেট শাখায় থাকা একটি লকার থেকে প্রায় ২ কোটি ৯০ লাখ টাকা মূল্যের স্বর্ণালংকার সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।

কানাডাপ্রবাসী ফারজানা রহমান লিমার অভিযোগ, জাল স্বাক্ষর ও ভুয়া ঘোষণাপত্রের মাধ্যমে তার লকার খুলে স্বর্ণালংকার বের করে নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় ব্যাংকের পার্সোনাল ডিভিশনের উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) সাইফুল আমিরের বিরুদ্ধে যোগসাজশের অভিযোগও করেছেন তিনি।

এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ

আরও কয়েকটি শাখায় অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ
ব্যাংকের একটি সূত্রের দাবি, আলোচিত এসব ঘটনার বাইরেও অগ্রণী ব্যাংকের আরও কয়েকটি শাখায় অর্থ আত্মসাতের ঘটনা ঘটেছে।

এর মধ্যে সেন্ট্রাল ল’ কলেজ শাখায় ক্লিয়ারিং সাসপেন্স হিসাব থেকে কোটি টাকা লোপাট, বগুড়ার ভাটারা শাখায় কয়েক কোটি টাকার নগদ অর্থ আত্মসাৎ, জয়পুরহাটের পাঁচবিবি ও আক্কেলপুর শাখায় অর্থ আত্মসাত, নারিশা বাজার শাখায় অর্থ আত্মসাত, আন্তাবারাহা শাখায় সঞ্চয়পত্রের অর্থ আত্মসাত এবং কলাকোপা ও পাবনার সুজানগর শাখায় অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে।

অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ নিয়েও প্রশ্ন
অগ্রণী ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ব্যাংকের একটি সূত্রের দাবি, ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ১৫(গ)(৩) ধারায় অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তির একই সময়ে ব্যাংক-কোম্পানির কোনো চুক্তি বা লেনদেনে যুক্ত হওয়া কিংবা ব্যাংকের প্রতিনিধিত্ব করার বিষয়ে বিধিনিষেধ রয়েছে।

তবে অগ্রণী ব্যাংকের এমডি থাকাকালে মো. আনোয়ারুল ইসলাম অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষার দায়িত্বপ্রাপ্ত জিএম ইখতিয়ার উদ্দিনকে অগ্রণী ব্যাংকের কুমিল্লা সার্কেল প্রধান এবং অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণের জিএম মো. ফজলুল করিমকে রাজশাহী সার্কেল প্রধানের দায়িত্ব দেন বলে সূত্রের অভিযোগ।

এ ধরনের পদায়ন ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ কাঠামো নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে।

ব্যবস্থাপনা ও নিয়োগ নিয়েও অভিযোগ
ব্যাংকের কয়েকজন কর্মকর্তা অভিযোগ করেছেন, শাখা পর্যায়ে পর্যাপ্ত অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার ঘাটতি এবং দুর্বল ব্যবস্থাপনার কারণে এসব অনিয়ম ঠেকানো সম্ভব হয়নি।

প্রশাসনের দায়িত্বে থাকা উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) রূবানা পারভীনের শাখা ব্যবস্থাপনায় পর্যাপ্ত অভিজ্ঞতা নেই বলেও কয়েকজন কর্মকর্তা দাবি করেছেন। তাদের ভাষ্য, সাধারণত এক নম্বর ডিএমডি প্রশাসনের দায়িত্বে থাকলেও সাবেক এমডি মো. আনোয়ারুল ইসলাম তিন নম্বর ডিএমডি হওয়া সত্ত্বেও রূবানা পারভীনকে এ দায়িত্ব দেন। বর্তমানে তিনি ওই দায়িত্ব পালন করছেন বলে সূত্র জানিয়েছে।

এছাড়া প্রশাসনের দায়িত্বে থাকা মহাব্যবস্থাপকের কর্মদক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন কয়েকজন কর্মকর্তা।

ব্যাংকের বিভিন্ন সূত্র আরও দাবি করেছে, জালিয়াতির সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে অভিযোগ ওঠা বেশির ভাগ কর্মকর্তা ২০১২ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে নিয়োগ পেয়েছেন। ওই সময়ের নিয়োগ নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে বলে সূত্রের দাবি।

বিশেষ করে ২০১২ সালে বিপুলসংখ্যক সিনিয়র অফিসার নিয়োগের ক্ষেত্রে আওয়ামীলীগ রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ রয়েছে। ওই সময় নিয়োগ পাওয়া অনেক কর্মকর্তার পরীক্ষার খাতা পাওয়া যাচ্ছে না বলেও সূত্র দাবি করেছে।

নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন
একই ব্যাংকের একাধিক শাখায় বড় অঙ্কের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ সামনে আসায় অগ্রণী ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ, অডিট, শাখা পরিদর্শন ও ব্যবস্থাপনা পর্যায়ের নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

সৈয়দপুরে প্রায় ৬৬ কোটি টাকা, কাশিনাথপুরে ১০ কোটি ১৩ লাখ ৬২ হাজার টাকা, ছেংগারচর বাজারে ৭৫ লাখ ২০ হাজার টাকা, চট্টগ্রামের লালদিঘী পূর্ব করপোরেট শাখায় ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা এবং শ্রীনগরে ১৪টি হিসাবের ২ কোটি ২৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ—সব মিলিয়ে ব্যাংকের শাখা পর্যায়ের অর্থের নিরাপত্তা ও লেনদেন পর্যবেক্ষণ নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

এর সঙ্গে রমনা করপোরেট শাখার লকার থেকে প্রায় ২ কোটি ৯০ লাখ টাকা মূল্যের স্বর্ণালংকার সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

সব মিলিয়ে রাষ্ট্রায়ত্ত এই ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপনা, অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ও তদারকি ব্যবস্থা কতটা কার্যকর—এখন সেই প্রশ্নই সামনে এসেছে। এসব ঘটনার সময় দায়িত্বে থাকা এমডি মো. আনোয়ারুল ইসলাম ২ সেপ্টেম্বর পদত্যাগ করার পর ব্যাংকের নতুন ব্যবস্থাপনা এসব অভিযোগের বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেয় এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা ঠেকাতে কী ব্যবস্থা নেয়, সেটিই এখন দেখার বিষয় বলে মনে করছেন খাত সংশ্লিষ্টরা।

অগ্রণী ব্যাংকের সাম্প্রতিক বিভিন্ন অনিয়ম ও গ্রাহকদের অর্থ নিয়ে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ব্যাংকটির চেয়ারম্যান সৈয়দ আবু নাসের বখতিয়ার আহমেদ। তিনি ভিওডি বাংলাকে বলেন, শ্রীনগরে গ্রাহকদের টাকা আত্মসাতের ঘটনা, লকার-সংক্রান্ত অভিযোগসহ সাম্প্রতিক বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিত অনুসন্ধান চলছে। এসব ঘটনায় যারা দায়ী, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, “শ্রীনগরের ঘটনায় যারা দায়ী, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”

লকার-সংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়ে চেয়ারম্যান বলেন, বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলা হচ্ছে।

সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোকে দুঃখজনক উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ ধরনের ঘটনা কাম্য নয়। তবে এসব ঘটনায় গ্রাহকদের অর্থ নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ নেই।

গ্রাহকদের আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, “গ্রাহকদের পুরো অর্থ পরিশোধ করা হবে। এতে কোনো অসুবিধা নেই।”

অগ্রণী ব্যাংকে স্বর্ণালংকার বা টাকা রাখা নিরাপদ কি না—গ্রাহকদের এমন উদ্বেগের বিষয়ে তিনি বলেন, অগ্রণী ব্যাংক একটি সরকারি ব্যাংক। সরকারি ব্যাংকে গ্রাহকের টাকা নিয়ে কেউ বলতে পারে না যে তা পরিশোধ করা হবে না।

তিনি বলেন, “সরকারি ব্যাংকে গ্রাহকের টাকা পরিশোধ করা হবে না—এমন কথা কেউ বলতে পারে না।”

সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোকে তিনি দুঃখজনক হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এসব ঘটনার পর প্রয়োজনীয় করণীয় নির্ধারণ করতে হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে, সে বিষয়েও ব্যবস্থা আমরা নিচ্ছি।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, অগ্রণী ব্যাংকের বিভিন্ন শাখায় অনিয়ম, দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের যে অভিযোগগুলো আমরা জেনেছি এসব অনিয়ম প্রতিরোধ ও দমনে অগ্রণী ব্যাংককেই কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। ব্যাংকের নিজস্ব ব্যবস্থাপনা ও অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা আরও জোরদার করার পাশাপাশি অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

তিনি আরও বলেন, কোনো অভিযোগ এলে বাংলাদেশ ব্যাংক তা তদন্ত করে দেখবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

[atn_photocard]
আরো