বীমা কোম্পানিতে সিএফও নিয়োগ নিয়ে ৩ নভেম্বর বিআইএ’র বৈঠক
নিজস্ব প্রতিবেদক: বীমা কোম্পানিগুলোতে যোগ্য ও পেশাদার প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা (সিএফও) নিয়োগ সংক্রান্ত আইডিআরএ’র নির্দেশনা বাস্তবায়ন নিয়ে বৈঠক ডেকেছে বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স এসোসিয়েশন (বিআইএ)। আগামী মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বিকাল সাড়ে ৩টায় লাইফ ও নন-লাইফ টেকনিক্যাল সাব-কমিটির এই যৌথ ভার্চুয়াল সভা অনুষ্ঠিত হবে।
সম্প্রতি বিআইএ’র সেক্রেটারি মো. ওমর ফারুক স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) থেকে বীমা কোম্পানিগুলোতে যোগ্য সিএফও নিয়োগ নিশ্চিত করার বিষয়ে একটি নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। মূলত আইডিআরএ’র সেই নির্দেশনার আলোকেই এই যৌথ সভার আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। এছাড়া সভায় বিবিধ বিষয়েও আলোচনার সুযোগ থাকবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
ভার্চুয়াল এই সভায় যথাসময়ে সংযুক্ত থেকে অংশ নেয়ার জন্য লাইফ ও নন-লাইফ টেকনিক্যাল সাব-কমিটির সকল সদস্যকে অনুরোধ জানিয়েছে বিআইএ। সভার এই নোটিশটি ইতিমধ্যে বিআইএ’র প্রেসিডেন্ট, প্রথম ভাইস-প্রেসিডেন্ট, ভাইস-প্রেসিডেন্ট এবং নির্বাহী কমিটির সকল সদস্যকে অবহিত করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, বীমা আইন ২০১০-এর ধারা ৮০, ৮১, ১২৪-১২৭ অনুযায়ী আইডিআরএ’র কেবল সিইও, উপদেষ্টা, এজেন্ট ও জরিপকারীসহ নির্দিষ্ট কিছু মধ্যস্থতাকারী নিয়োগ বা অনুমোদনের এখতিয়ার রয়েছে। প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা (সিএফও) নিয়োগে নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন নেয়ার বিষয়টি আইন সংশোধনের খসড়া প্রস্তাবে থাকলেও, তা চূড়ান্ত হওয়ার আগেই আইনকে পাশ কাটিয়ে এই সার্কুলার জারি করা হয়েছে।
খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নির্দেশনায় সব কোম্পানির আর্থিক সক্ষমতা ও বাস্তব প্রয়োজনীয়তাকে বিবেচনায় নেয়া হয়নি। চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট (সিএ) বা সমমানের উচ্চতর শিক্ষাগত ও পেশাগত যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তি নিয়োগ দেয়া সব কোম্পানির পক্ষে আর্থিকভাবে সম্ভব নাও হতে পারে।
অনেক বীমা কোম্পানিতে ১০-২০ বছর ধরে অভিজ্ঞ ব্যক্তিরা সিএফও পদে দায়িত্ব পালন করছেন। নতুন নিয়মের কারণে শিক্ষাগত সনদ না থাকায় এসব দক্ষ ও অভিজ্ঞ পেশাজীবীদের বাদ দিতে হবে, যা এই খাতে দক্ষ জনবল ধরে রাখার ক্ষেত্রে বড় অন্তরায়।
একইসঙ্গে সার্কুলারের শর্ত পূরণ করতে গিয়ে বিদ্যমান কোনো অভিজ্ঞ সিএফও’কে চাকরিচ্যুত বা বাদ দিতে হলে সংশ্লিষ্ট বীমা কোম্পানিকে মোটা অঙ্কের আর্থিক ক্ষতিপূরণ বা দায়ের মুখে পড়তে হবে।
এছাড়াও সার্কুলার অনুযায়ী আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে এই উচ্চ যোগ্যতাসম্পন্ন সিএফও নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। এত অল্প সময়ের মধ্যে যোগ্য প্রার্থী খুঁজে পাওয়া যেমন কঠিন, তেমনি বছরের শেষ মুহূর্তে এসে নতুন সিএফও’র পক্ষে কোম্পানির বার্ষিক আর্থিক প্রতিবেদন সঠিকভাবে প্রস্তুত করাও প্রশ্নবিদ্ধ বলে মনে করছেন তারা।