পদ্মা ব্যাংকে টাকা দিয়ে বড় বিপদে রাষ্ট্রায়ত্ত ৪ ব্যাংক ও আইসিবি
পদ্মা ব্যাংককে মূলধন হিসেবে যোগান দেওয়া অর্থের ১৬ কোটি টাকা অবলোপন হিসেবে দেখিয়েছে জনতা ব্যাংক। বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করে, প্রায় ৫শ কোটি টাকা সমন্বয় নিয়ে বিপাকে সোনালী ব্যাংকও। এছাড়া, অগ্রণী, রূপালী এবং আইসিবিও আছে চরম অস্বস্তিতে। ব্যাংকটিতে জমা রাখা সরকারি প্রতিষ্ঠান এবং বিনিয়োগকারীরাও এক রকম দিশেহারা। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দুর্বল প্রতিষ্ঠান বাঁচাতে শুরুতেই ভুল পদক্ষেপ নিয়েছিলো সরকার। পরোক্ষভাবে যার দায় এখন জনগণের কাঁধে।
২০১৩ সালে যাত্রা শুরু করার ছয় বছর পর পদ্মায় রূপান্তরিত হয় আলোচিত ফারমার্স ব্যাংক। চতুর্থ প্রজন্মের প্রতিষ্ঠান হিসেবে যা শুরু থেকেই ছিলো তুমুল আলোচনায়। বিশেষ করে, ঋণ কেলেঙ্কারি আর নানা অনিয়মের বৃত্তে ঘুরপাক খেতে থাকে শুরু থেকেই। যার মূলে ছিলেন উদ্যোক্তা চেয়ারম্যান ও সেসময়ের মন্ত্রী মহিউদ্দিন খান আলমগীর।
রক্ষকদের থাবায় এক রকম ফোকলা হয়ে যাওয়া এই ব্যাংক বাঁচাতে, ২০১৮ সালে, সোনালী, জনতা, অগ্রণী, রূপালী এবং আইসিবির মাধ্যমে মূলধন যোগান দেয়া ৭১৫ কোটি টাকা। পরে ব্যাংকটির ৬৮ শতাংশ মালিকানা পায় ওই ৫ প্রতিষ্ঠান। এর বাইরে আরো ৯শ কোটি টাকা যায় বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ হিসেবে। কিন্তু সেসবই এখন গলার কাঁটা।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শহিদুল জাহিদ বলেন, এখন যে অর্থটা এখানে বিনিয়োগ করা হয়েছে এগুলো তো আমানতকারীদের টাকা। এগুলো তো জনগণের টাকা। তো সুতরাং জনগণের টাকা এখানে ব্যাংক ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ অথবা তাদের যে সহযোগী প্রতিষ্ঠান তাদের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ তারা কিন্তু আসলে কোনভাবে দায় এড়াতে পারে না।
ওই সময়ে সবচেয়ে বেশি মূলধন যোগান দেয় সোনালী ব্যাংক ২৯০ কোটি টাকা। এর বাইরে এফডিআর ও কলমানিতে প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ ছিলো আরো ১৯৪ কোটি। যার পুরোটাই এখন ক্ষতির মুখে। অন্যদিকে, ১৪৫ কোটি করে মূলধন দেয় জনতা ও অগ্রণী ব্যাংক। সাথে রূপালী এবং আইসিবি মিলে দেয় আরো ১৩৫ কোটি।
এমন অবস্থায়, বিনিয়োগের অর্থ সমন্বয় করতে গিয়ে মহা বিপাকে পড়েছে প্রতিষ্ঠানগুলো। যেমন, জনতা ব্যাংক সেখানকার ১৬ কোটি টাকা দেখিয়েছে অবলোপন হিসেবে। বিশ্লেষকরা মনে করেন, শুরু থেকেই প্রতিষ্ঠান বাঁচানোর নামে ভুল পদক্ষেপে এগিয়েছে সরকার। যার ফল ভোগ করছেন করদাতারা।
শুধু প্রতিষ্ঠানই নয়, বিনিয়োগকারীদের অর্থে গঠিত ‘১ম জনতা ব্যাংক মিউচুয়াল ফান্ড’-এর ৬ কোটি ৩৯ লাখ টাকার শেয়ার মূলধন ও ২ কোটি ১০ লাখ টাকার ব্যাংক জমার লভ্যাংশ দীর্ঘদিন ধরে অনিশ্চয়তায়