মোবাইল ব্যাংকিং ট্রোজানের সংখ্যা বাড়ছে: ক্যাসপারস্কি
বর্তমান বিশ্ব দৈনন্দিন প্রায় সব কাজেই মোবাইল ফোনের ওপর নির্ভরশীল। আর এই নির্ভরতাকে কাজে লাগিয়ে সাইবার অপরাধীরা আরও বেশি তৎপর হয়ে উঠেছে। ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে ক্যাসপারস্কি ম্যালওয়্যার, অ্যাডওয়্যার ও অবাঞ্ছিত মোবাইল সফটওয়্যারের ২৬ লক্ষ ৭০ হাজারেরও বেশি সাইবার অ্যাটাক প্রতিরোধ করেছে। একইসময় শনাক্ত হয়েছে ৩ লক্ষ ৬ হাজার ৭০টি ক্ষতিকর ইনস্টলেশন প্যাকেজ, যার মধ্যে ৪৩৯টি ছিল মোবাইল র্যানসমওয়্যার ট্রোজান। সবচেয়ে বেশি আলোচিত ছিল ট্রায়াডা ও কিনাডু’র মতো প্রি-ইনস্টলড ব্যাকডোর।
ক্যাসপারস্কি সিকিউরিটি নেটওয়ার্কের তথ্য বিশ্লেষণ করে এমন চিত্র উঠে এসেছে। এই পরিসংখ্যান ২০২৫ সালের ধারাবাহিকতাকেই তুলে ধরে। সে বছর বিশ্বজুড়ে ক্যাসপারস্কির সল্যুশনগুলো প্রায় ১ কোটি ৪০ লক্ষ মোবাইল অ্যাটাক প্রতিরোধ করে, যা মাসে গড়ে প্রায় ১১ লক্ষ ৭০ হাজার। এর ফলে, সাইবার অ্যাটাকাররা এখন বৈধ অনলাইন সেবা ও পরিচিত অ্যাপ বা টুল ব্যবহার করে ধাপে ধাপে অ্যাটাক চালাচ্ছে।
ক্যাসপারস্কি’র এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের কঞ্জ্যুমার চ্যানেলের প্রধান চুন হং চি বলেন, “সাইবার অপরাধীরা সময়ের সাথে সাথে আরও সূক্ষ্ম কৌশল অবলম্বন করছে। আন-অফিসিয়াল অ্যাপ স্টোর, ফিশিং লিংক, ভুয়া পুরস্কারের অফার, বৈধ অ্যাপের পরিবর্তিত সংস্করণ, ক্ষতিকর বিজ্ঞাপন ক্যাম্পেইন, মোবাইল প্রতারণার ভিন্ন ভিন্ন ফাঁদ ইত্যাদি সবই ব্যবহার হচ্ছে ক্ষতিকর অ্যাপ ছড়াতে ও ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য হাতিয়ে নিতে।”
অন্য আরেকটি গবেষণায় দেখা গেছে, ম্যাসেজিং অ্যাপে প্রতারণার শিকার হলে একজন ভুক্তভোগী গড়ে ৭৩৩ মার্কিন ডলার হারাচ্ছে, যার ৫২ শতাংশ ঘটনাই ঘটে মাত্র ৩০ মিনিটের মধ্যে।
এক্ষেত্রে নিরাপদ থাকতে কেবল বিশ্বস্ত মার্কেটপ্লেস থেকে অ্যাপ ইনস্টল করতে, সন্দেহজনক লিংক এড়িয়ে চলতে, ডিভাইজের সফটওয়্যার আপডেটেড রাখতে, যাচাই করে ব্যক্তিগত তথ্য দিতে এবং মোবাইলের জন্য নির্দিষ্ট নিরাপত্তা সল্যুশন ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে ক্যাসপারস্কি।