ইস্টার্ন ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যানের অভিনব জালিয়াতি

আইন-কানুনের তোয়াক্কা না করে, নাম সর্বস্ব প্রতিষ্ঠান বানিয়ে, ইস্টার্ন ব্যাংকের ২১ শতাংশ শেয়ার দখল করে আছেন সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শওকত আলী চৌধুরী ও তার পরিবার। বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশেষ পরিদর্শনে বলা হয়েছে, ব্যাংক কোম্পানি আইনে নির্ধারিত সীমার চেয়ে এই শেয়ার দ্বিগুণের ওপরে। ক্ষমতার অপব্যবহার, ভুয়া প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণসহ বেশ কিছু অভিযোগও আনে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

দেশের আর্থিক খাতে আস্থার প্রতীক হিসেবে সামনের কাতারে বেসরকারি ইস্টার্ন ব্যাংক পিএলসি। এক সময়ের রুগ্ণ এই প্রতিষ্ঠান, ঘুরে দাঁড়িয়েছে উপযোগী নীতির বাস্তবায়ন, স্বচ্ছতা আর জবাবদিহিতায় ভর করে। তবে, সেখানেই যেনো এখন নিয়ম ভাঙার খেলায় মেতেছেন প্রতিষ্ঠানের সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শওকত আলী চৌধুরী।

সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটির ওপর নিরীক্ষা চালায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এতে উঠে আসে, ব্যাংক কোম্পানি আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে, একক পরিবারে সীমার দ্বিগুণের বেশি শেয়ার ধারণের প্রমাণ। বলা হয়, ব্যাংকটিতে শওকত আলী চৌধুরী সরাসরি শেয়ার রয়েছে ৯ দশমিক ৯৮ শতাংশ। এর বাইরে পরোক্ষভাবে আরও সাড়ে ১০। ফলে, সব মিলিয়ে তাঁর মালিকানা প্রায় ২১ শতাংশ। অথচ, আইন অনুযায়ী, এই হার থাকার কথা সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ।

এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ

প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিজ নামের বাইরে থাকা সাড়ে ১০ শতাংশ শেয়ার কব্জা করেন বেনামি প্রতিষ্ঠান বানিয়ে। সে রকমই একটি আরুশা অ্যান্ড কোম্পানি। অস্তিত্ব না থাকলেও, ২০০২ সালে যার নামে কেনা হয় প্রায় ৮ কোটি টাকার ৭ লাখ ১৮ হাজার শেয়ার। পরে, ধারাবাহিকতা ও কার্যক্রম বিশ্লেষণ করে, শওকত আলীকে সেই প্রতিষ্ঠানের মূল মালিক হিসেবে চিহ্নিত করতে সক্ষম হয় নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

ধানমন্ডি ও গুলশান-বনানী লেক দ্রুত আধুনিকায়নের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীরধানমন্ডি ও গুলশান-বনানী লেক দ্রুত আধুনিকায়নের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
অভিযোগে বলা হয়, বেনামি প্রতিষ্ঠানের তালিকায় আরো আছে নমরিন এন্টারপ্রাইজ, নমরিন পাওয়ার, জেডএস হোল্ডিং, জেডএন এন্টারপ্রাইজ ও আনিকা সিকিউরিটিজ। এসব প্রতিষ্ঠানের শেয়ার হিসাব করলে শওকত আলী চৌধুরীর মোট মালিকানা দাঁড়ায় ২১ দশমিক ১০ শতাংশে দাঁড়ায়। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শনে হিসাব আসে ২০ দশমিক ৪৮ শতাংশের।

শুধু শেয়ার জালিয়াতি নয়, শিল্পঋণ ও বন্ডেড সুবিধার আওতায় মাল্টি সাফাহ ব্যাগস লিমিটেডের নামে আমদানি করা হয় মার্সিডিজ-বেঞ্জ এএমজি জি-63 মডেলের গাড়ি। তবে, সেই প্রতিষ্ঠানের কাউকে চিহ্নিত করা যায়নি পরিদর্শনে।

শওকত আলী চৌধুরীর সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিসের দ্বৈত নাগরিকত্ব ও পাসপোর্ট থাকার অভিযোগও তদন্তে আসে। তবে যাচাই করার মতো প্রয়োজনীয় নথি না থাকায় অভিযোগটি নিশ্চিত হতে পারেনি নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

[atn_photocard]
আরো