রেলওয়ের ভুয়া বিল দেখিয়ে ৯৬ লাখ টাকা আত্মসাৎ, ১৪ জনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

চট্টগ্রামে বাংলাদেশ রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলে ভুয়া বিল দেখিয়ে ৯৬ লাখ ৯০ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে বাংলাদেশ রেলওয়ে, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন ও সীমান্ত ব্যাংকসহ তিন প্রতিষ্ঠানের ১৪ কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

সোমবার ২৬ অক্টোবর দুদক চট্টগ্রাম সমন্বিত জেলা কার্যালয়-২ এর উপপরিচালক রিয়াজ উদ্দিন বাদী হয়ে দুদক চট্টগ্রাম সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১ এ মামলাটি দায়ের করেন।

পরস্পর যোগসাজশে, ক্ষমতার অপব্যবহার করে প্রতারণা ও জালজালিয়াতির মাধ্যমে ভুয়া বিল দেখিয়ে ৯৬ লাখ ৯০ হাজার টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগে দণ্ডবিধির ৪০৯, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১, ১০৯ এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় মামলাটি দায়ের করা হয়। বাদী নিজেই জাগো নিউজকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ

চার দিনের সফরে জাপান পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী

১ নভেম্বর খুলছে সেন্টমার্টিন

মামলার আসামীরা হলেন, বাংলাদেশ রেলওয়ের অস্থায়ী কর্মচারী মোহাম্মদ হাবিবুল্লা খান (৩৭), সাবেক অডিটর পবন কুমার পালিত (৬১), জুনিয়র অফিসার মোহাম্মদ মেহেদী হাসান (৩৫), খোকন চন্দ্র দে (৪৫), হিসাব কর্মকর্তা মো. মামুন হোসেন (৪৫), হিসাবরক্ষক সৈয়দ মো. সাইফুর রহমান (৪৪), হিসাব কর্মকর্তা মো. আবু নাছের (৪২), অফিস সহায়ক মো. মাকসুদুর রহমান (৪০), চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) লাইসেন্স ও বিজ্ঞাপন পরিদর্শক মুহাম্মদ ইকবাল (৪৩), সাবেক উপকর কর্মকর্তা এম মনজুর উদ্দিন চৌধুরী (৬১), সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর কর্মকর্তা মুহাম্মদ জসিম উদ্দিন (৬১), সীমান্ত ব্যাংক লিমিটেডের অফিসার মো. পারভেজ (৩৭), রিলেশনশীপ ম্যানেজার বিদেশ বড়ুয়া (৪৩) এবং সাবেক ব্যবস্থাপন গোলাম মোহাম্মদ ফরহাদ সরওয়ার (৫৩)।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ভিন্ন ব্যক্তির ছবিযুক্ত ভুয়া এনআইডি ব্যবহার করে ‌‘মেসার্স দি কসমোপলিটন কর্পোরেশন’ নামে সীমান্ত ব্যাংক আগ্রাবাদ শাখায় হিসেব খুলেন কোহিনুর আকতার নামে এক ভুয়া নারী। একই কায়দায় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন থেকে একই নামে ট্রেড লাইসেন্স প্রদান করা হয়। পরে বাংলাদেশ রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলে একটি ভুয়া বিল তৈরি করে, রেলওয়ের হিসাব বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের যোগসাজশে ২০২৩ সালের ডিসেম্বর মাসে একটি বিল সরকারি হিসাব সফটওয়্যার আইবাস++ থেকে অনুমোদন করে ‘মেসার্স দি কসমোপলিটন কর্পোরেশন’ নামে ভুয়া বিলটির ট্রেজারি চেক ইস্যু করা হয়।

পরে সোহাগ আলী নামের আরেক ব্যক্তি চেকটি সীমান্ত ব্যাংক আগ্রাবাদ শাখায় জমা করেন। পরে টাকাগুলো ২০২৪ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৮ জানুয়ারির মধ্যে টাকাগুলো তোলে নেয়া হয়। তবে প্রাথমিক পর্যায়ে কোহিনুর আকতার ও সোহাগ আলীকে শনাক্ত করা যায়নি বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়।

[atn_photocard]
আরো