ইউএফএস-প্রগতি লাইফ ইউনিট ফান্ড অবসায়নের অনুমোদন
ইউনিভার্সাল ফাইন্যান্সিয়াল সলিউশন্সের (ইউএফএস) ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত ইউএফএস-প্রগতি লাইফ ইউনিট ফান্ড বন্ধ বা অবসায়নের প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। ফান্ডটির সম্পদ নগদায়ন করে বিনিয়োগকারীদের পাওনা পরিশোধের প্রক্রিয়া এখন শুরু হবে।
ফান্ডটির ট্রাস্টি বাংলাদেশ জেনারেল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি (বিজিআইসি) এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে। এতে বলা হয়, গত ৯ আগস্ট বিএসইসির দেওয়া চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে ফান্ডটির অবসায়নের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
ট্রাস্টি হিসেবে বিজিআইসি ইতোমধ্যে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (মিউচুয়াল ফান্ড) বিধিমালা, ২০২৫ অনুযায়ী অবসায়ন প্রক্রিয়া শুরু করেছে। ফান্ডের সম্পদ নগদায়ন এবং বিনিয়োগকারীদের পাওনা পরিশোধের বিষয়ে পরবর্তী নির্দেশনা যথাসময়ে জানানো হবে।
ইউএফএস-প্রগতি লাইফ ইউনিট ফান্ডটি একটি বেমেয়াদি বা ওপেন-এন্ডেড মিউচুয়াল ফান্ড। এর স্পন্সর ছিল প্রগতি লাইফ ইন্স্যুরেন্স। ফান্ডটিতে কোম্পানিটির বিনিয়োগ ছিল ৯৮ লাখ টাকা। আর ফান্ডটির সম্পদ ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে ছিল ইউএফএস।
ফান্ডটির অবসায়নের সিদ্ধান্ত এমন সময়ে এলো, যখন ইউএফএসের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন আর্থিক অনিয়মের তদন্ত ও মামলা চলছে।
২০২২ সালে ইউএফএসের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের তথ্য শনাক্ত করে বিএসইসি। এ ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ হামজা আলমগীরসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে।
পরবর্তী সময়ে ইউএফএসের একাধিক ওপেন-এন্ডেড মিউচুয়াল ফান্ড থেকে ১৭০ কোটি ৬৯ লাখ টাকা পাচারের অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটির শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মামলা করার উদ্যোগ নেয় বিএসইসি। সংশ্লিষ্ট ফান্ডগুলোর মধ্যে ছিল ইউএফএস-বাংলাদেশ এশিয়া ইউনিট ফান্ড, ইউএফএস-আইবিবিএল শরিয়াহ ইউনিট ফান্ড, ইউএফএস-পদ্মা লাইফ ইসলামিক ইউনিট ফান্ড এবং ইউএফএস-পপুলার লাইফ ইউনিট ফান্ড।
এরপর ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে ২৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মামলায় ইউএফএসের শীর্ষ কর্মকর্তা, ফান্ডের ট্রাস্টি হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) কর্মকর্তা এবং স্বাধীন নিরীক্ষকদের বিরুদ্ধে বিনিয়োগকারীদের ৩১১ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়।
দুদকের মামলার নথি অনুযায়ী, অভিযুক্তরা জালিয়াতির মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের অর্থ বিভিন্ন অননুমোদিত ব্যাংক হিসাব ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে স্থানান্তর করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তদন্তে ৫৯ কোটি ৪০ লাখ টাকার অননুমোদিত বিনিয়োগ, ১৪৮ কোটি টাকার ভুয়া ফিক্সড ডিপোজিট রসিদ (এফডিআর) তৈরি এবং শেয়ার বিক্রি থেকে পাওয়া ৬৩ কোটি ৮৭ লাখ টাকা ফান্ডে জমা না দেওয়ার মতো অনিয়মের তথ্য উঠে আসে বলে মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া ব্যবস্থাপনা ও ট্রাস্টি ফি বাবদ আদায় করা অর্থ নিয়েও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।
এসব অনিয়মের ঘটনায় নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠান আহমেদ জাকের অ্যান্ড কোং-এর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয় বিএসইসি। অনিয়মে সহযোগিতার অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটিকে পুঁজিবাজার-সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম থেকে নিষিদ্ধ করা হয়।
এখন বিএসইসির অনুমোদনের পর ইউএফএস-প্রগতি লাইফ ইউনিট ফান্ডের সম্পদ নগদায়ন ও বিনিয়োগকারীদের পাওনা পরিশোধের প্রক্রিয়া কীভাবে সম্পন্ন হয়, সেটিই পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।