আইপিও অর্থে ড্রেজার ক্রয়, ডমিনেজ স্টিলের ৭ জনকে জরিমানা

প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) অর্থ ব্যবহারে অনিয়ম, তথ্য গোপন ও জালিয়াতির অভিযোগে ডমিনেজ স্টিল বিল্ডিং সিস্টেমস লিমিটেডের পাঁচ পরিচালক ও দুই কর্মকর্তাকে মোট ৫ কোটি ১০ লাখ টাকা জরিমানা করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

বিএসইসির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, কোম্পানিটির চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মোহাম্মদ শামসুল ইসলাম, ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, পরিচালক সুজিত সাহা, রকিবুল ইসলাম ও আবুল কালাম ভূঁইয়াকে ১ কোটি টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়া সাবেক প্রধান অর্থ কর্মকর্তা (সিএফও) মো. জিল্লুর রহমান ও সাবেক কোম্পানি সচিব মো. জামির হোসেন চৌধুরীকে ৫ লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।

বিএসইসির আদেশে বলা হয়েছে, জরিমানার অর্থ আগামী ৩০ দিনের মধ্যে ব্যাংক ড্রাফট বা পে-অর্ডারের মাধ্যমে কমিশনে জমা দিতে হবে।

বিএসইসির পরিদর্শন ও তদন্তে ডমিনেজ স্টিলের আইপিও অর্থ ব্যবহারে একাধিক অনিয়মের তথ্য উঠে এসেছে। প্রসপেক্টাস অনুযায়ী, আইপিওর মাধ্যমে সংগ্রহ করা ৩০ কোটি টাকা ভবন নির্মাণ, ইলেকট্রিক্যাল ইনস্টলেশন, প্ল্যান্ট ও মেশিনারিজ ক্রয় এবং আইপিও-সংক্রান্ত ব্যয়ে ব্যবহারের কথা ছিল। তবে অর্থ ব্যবহারের ক্ষেত্রে নির্ধারিত নিয়ম ও সিকিউরিটিজ আইন অনুসরণ করা হয়নি বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

তদন্তে আরও বলা হয়েছে, আইপিও অর্থ ব্যবহারের খাত পরিবর্তনের জন্য সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের পূর্বানুমোদন নেওয়ার ক্ষেত্রেও অনিয়ম করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, বিনিয়োগকারীদের কাছে প্রকৃত তথ্য গোপন করে জাল স্বাক্ষরের মাধ্যমে প্রক্সি ভোট সংগ্রহের চেষ্টা করা হয়েছিল।

এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ

সৌর বিদ্যুৎ খাতে শুল্ক-কর ছাড় বাড়ালো এনবিআর

বিশ্ববাজারে কমল তেলের দাম

আইপিও অর্থ ব্যবহারের অন্যতম বড় অনিয়মের অভিযোগ ওঠে ড্রেজার কেনার ক্ষেত্রে। সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের পূর্বানুমোদন ছাড়াই ১৪ কোটি ৭৩ লাখ টাকা ব্যয়ে ‘সিএসডি ডমিনেজ-৩’ নামে একটি ড্রেজার কেনে কোম্পানিটি। ২০২১ সালে কেনার পর ২০২৪ সাল পর্যন্ত প্রায় তিন বছরেও ড্রেজারটি থেকে কোনো ব্যবসায়িক আয় হয়নি বলে তদন্তে উল্লেখ করা হয়েছে। এমনকি কেনার পর থেকে এটি কোনো ব্যবসায়িক কাজেও ব্যবহার করা হয়নি।

ড্রেজারটির প্রস্তুতকারক ও মূল্য নিয়েও কোম্পানির দেওয়া তথ্যের যথার্থতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কোম্পানির নথিতে প্রস্তুতকারক হিসেবে সুন্দরবন শিপবিল্ডার্সের নাম উল্লেখ করা হলেও প্রতিষ্ঠানটি লিখিতভাবে বিএসইসিকে জানিয়েছে, তারা ওই ড্রেজার তৈরি করেনি।

তদন্তে সাভারের আশুলিয়া ও নরসিংদীর পলাশে থাকা কোম্পানির দুটি কারখানা দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার তথ্যও উঠে এসেছে। তবে এসব তথ্য বিনিয়োগকারীদের জানানো হয়নি বলে উল্লেখ করেছে বিএসইসি। এটিকে মূল্য সংবেদনশীল তথ্য প্রকাশের বিধানের লঙ্ঘন হিসেবে দেখা হয়েছে।

এছাড়া আশুলিয়ায় কারখানার শেড সম্প্রসারণের নামে নির্মাণ ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বেশি দেখিয়ে আইপিও অর্থ থেকে প্রায় ৩ কোটি ২৭ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগও তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে বলে জানিয়েছে কমিশন।

ডমিনেজ স্টিল ২০২০ সালে আইপিওর মাধ্যমে শেয়ারবাজার থেকে ৩০ কোটি টাকা সংগ্রহ করে। এ জন্য ৩ কোটি শেয়ার ছাড়ে কোম্পানিটি। প্রতিটি শেয়ারের মূল্য ছিল ১০ টাকা।

‘বি’ ক্যাটাগরির এ কোম্পানিটির পরিশোধিত মূলধন ১০২ কোটি ৬০ লাখ টাকা। ৩১ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের হাতে কোম্পানিটির ৩০ দশমিক ২০ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের হাতে ৮ দশমিক ০৮ শতাংশ, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের হাতে শূন্য দশমিক ০২ শতাংশ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে ৬১ দশমিক ৭০ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।

[atn_photocard]
আরো