মুনাফা ও ডিভিডেন্ডে বড় ধস হাইডেলবার্গ সিমেন্টের

নিজস্ব প্রতিবেদক: কাঁচামালের আকাশচুম্বী দাম এবং তীব্র প্রতিযোগিতার কারণে বিক্রি বাড়াতে না পারায় ২০২৫ অর্থবছরে বড় ধরনের ব্যবসায়িক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত বহুজাতিক কোম্পানি হেইডেলবার্গ ম্যাটেরিয়ালস বাংলাদেশ পিএলসি। দেশের অন্যতম শীর্ষ এই সিমেন্ট উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের নিট মুনাফা আগের বছরের তুলনায় ৫৭ শতাংশ কমে মাত্র ২০ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে।

ব্যবসায়িক মুনাফায় এই বড় ধসের কারণে বিনিয়োগকারীদের জন্য ডিভিডেন্ডের পরিমাণও নাটকীয়ভাবে কমিয়ে দিয়েছে কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ। ২০২৪ সালে যেখানে ২৫ শতাংশ ক্যাশ ডিভিডেন্ড দেওয়া হয়েছিল, সেখানে ২০২৫ সালের জন্য মাত্র ১১ শতাংশ বা শেয়ারপ্রতি ১ টাকা ১০ পয়সা ক্যাশ ডিভিডেন্ডের সুপারিশ করা হয়েছে।

২৩ এপ্রিল অনুষ্ঠিত পর্ষদ সভায় অনুমোদিত নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, কোম্পানিটির বার্ষিক আয় ১.৫২ শতাংশ কমে ১ হাজার ৪৫১ কোটি টাকা হয়েছে। তবে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় গ্রস প্রফিট বা মোট মুনাফা ১২ শতাংশ কমে ১৫৩ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে।

২০২৫ অর্থবছর শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) দাঁড়িয়েছে ৩ টাকা ৫৫ পয়সায় এবং শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদ মূল্য (এনএভি) হয়েছে ৭৩ টাকা ৯২ পয়সা। বিনিয়োগকারীদের জন্য সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, শেয়ারপ্রতি নিট অপারেটিং ক্যাশ ফ্লো ঋণাত্মক (০৪ পয়সা) হয়ে পড়েছে, যা কোম্পানির তারল্য সংকটের চিত্র তুলে ধরছে।

আরও দেখুন
খেলাধুলা সংবাদ
অর্থনীতি সংবাদ
জবস কর্নার
বিনোদন সংবাদ
এদিকে, ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকের (জানুয়ারি-মার্চ) অনিরীক্ষিত প্রতিবেদনে দেখা গেছে, কোম্পানিটির আর্থিক সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে। এই তিন মাসে হেইডেলবার্গ ৪ কোটি ৯৫ লাখ টাকা নিট লোকসান গুনেছে, যেখানে গত বছরের একই সময়ে তারা মুনাফায় ছিল। বছরের প্রথম প্রান্তিকে রাজস্ব ১৬ শতাংশ কমে ৩৬২ কোটি ৪০ লাখ টাকা এবং মোট মুনাফা ৫৫ শতাংশ কমে মাত্র ২৫ কোটি টাকায় নেমেছে। ফলে এ প্রান্তিকে শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ৮৮ পয়সা।

কোম্পানি কর্তৃপক্ষ এই বিপর্যয়ের কারণ হিসেবে কাঁচামালের দাম বৃদ্ধিতে দায়ী করেছেন। তিনি জানান, বাজারে তীব্র প্রতিযোগিতা থাকায় বর্ধিত উৎপাদন খরচের পুরোটা ক্রেতাদের ওপর চাপানো সম্ভব হয়নি। ফলে মুনাফায় এই নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। তবে সরবরাহকারীদের পাওনা পরিশোধ এবং পরিচালন ব্যয় কমিয়ে আনার ফলে ক্যাশ ফ্লোতে কিছুটা উন্নতি (শেয়ারপ্রতি ৭ টাকা ৪৯ পয়সা) হয়েছে বলে তিনি জানান।

উল্লেখ্য, ১৯৮৯ সালে ‘চট্টগ্রাম সিমেন্ট ক্লিঙ্কার গ্রাইন্ডার’ নামে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়া এই কোম্পানিটি বর্তমানে বৈশ্বিক জায়ান্ট হেইডেলবার্গ ম্যাটেরিয়ালসের মালিকানাধীন। বৃহস্পতিবার ডিএসইতে কোম্পানিটির শেয়ার দর ০.৩৫ শতাংশ কমে ২২৪ টাকা ৯০ পয়সায় থিতু হয়েছে। ঘোষিত ডিভিডেন্ড অনুমোদনের জন্য আগামী ১৮ জুন বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) আহ্বান করা হয়েছে এবং এর রেকর্ড ডেট নির্ধারণ করা হয়েছে ২০ মে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, কোম্পানির ৬০.৬৭ শতাংশ শেয়ার উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের হাতে রয়েছে।

আরো