বিশ্ব বিনিয়োগকারী সপ্তাহ-২০২৫ উপলক্ষে হাইব্রিড সেমিনার
বিশ্ব বিনিয়োগকারী সপ্তাহ-২০২৫ উপলক্ষে আজ ঢাকায় হাইব্রিড পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত হলো একটি গুরুত্বপূর্ণ সেমিনার। “Empowering Investors through Emerging Technology and Digital Finance” শীর্ষক এ সেমিনারের আয়োজন করে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ পিএলসি, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ পিএলসি, ডিএসই ব্রোকারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিবিএ) এবং সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেড (সিডিবিএল)।
সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) কমিশনার মো. সাইফুদ্দিন, সিএফএ। সভাপতিত্ব করেন ডিবিএ’র প্রেসিডেন্ট সাইফুল ইসলাম এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন ডিএসই’র চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম ও সিএসই’র চেয়ারম্যান একেএম হাবিবুর রহমান। সঞ্চালনায় ছিলেন ডিএসই’র সহকারী মহাব্যবস্থাপক কামরুন নাহার।
প্রারম্ভিক বক্তব্যে ডিএসই’র প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মো. আসাদুর রহমান, এফসিএস জানান, আন্তর্জাতিক সংগঠন IOSCO-এর আহ্বানে বিএসইসি ৬-১২ অক্টোবর “বিশ্ব বিনিয়োগকারী সপ্তাহ-২০২৫” পালন করছে। এবারের প্রচারণায় IOSCO গুরুত্ব দিয়েছে— প্রযুক্তি ও ডিজিটাল ফাইন্যান্স, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) এবং জালিয়াতি প্রতিরোধকে।
সিডিবিএল-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আব্দুল মোতালেব চৌধুরী বলেন, বিনিয়োগকারীদের নিরাপত্তায় তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো হচ্ছে। লেনদেনের তথ্য, বিও অ্যাকাউন্টের পরিবর্তন ও বন্ধ সংক্রান্ত বার্তা ই-মেইল ও মোবাইলে পাঠানো হচ্ছে। তিনি বিনিয়োগকারীদের সঠিক যোগাযোগের তথ্য ও টিআইএন হালনাগাদ রাখার অনুরোধ জানান।
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ডিবিএ-এর প্রেসিডেন্ট সাইফুল ইসলাম। তিনি বলেন, “ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও উদীয়মান প্রযুক্তি পুঁজিবাজারে নিরাপদ, স্বচ্ছ ও দক্ষ পরিবেশ নিশ্চিত করছে। তবে বিনিয়োগকারীদের আর্থিক সাক্ষরতা, তথ্যপ্রাপ্তির সীমাবদ্ধতা এবং ভুল তথ্যের ঝুঁকি এখনো বড় চ্যালেঞ্জ।”
তিনি চারটি কৌশলের ওপর গুরুত্বারোপ করেন— শিক্ষা ও সচেতনতা, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার ডিজিটাল টুল, অন্তর্ভুক্তিমূলক ডিজিটাল অংশগ্রহণ এবং স্বচ্ছ তথ্য প্রকাশ।
ডিএসই’র চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম বলেন, “প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ বাড়লেও স্টেকহোল্ডারদের মধ্যে সমন্বয়ের অভাবের কারণে কাঙ্ক্ষিত সুফল মিলছে না।” তিনি প্রযুক্তির সঠিক প্রয়োগ ও অবাধ তথ্যপ্রবাহ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
সিএসই’র চেয়ারম্যান একেএম হাবিবুর রহমান বলেন, “অটোমেশন সত্ত্বেও অনিয়ম রয়ে গেছে। এর সমাধানে রিপোর্টিং, সারভেলেন্স ও মনিটরিং শক্তিশালী করতে হবে।” পাশাপাশি তিনি বিনিয়োগকারীদের আর্থিক শিক্ষা বাড়ানোর গুরুত্ব দেন।
বিএসইসি’র কমিশনার মো. সাইফুদ্দিন বলেন, “তথ্য প্রকাশে স্বচ্ছতা এখনো বাজারের বড় চ্যালেঞ্জ। স্টেকহোল্ডারদের মধ্যে সমন্বয় বাড়াতে হবে এবং প্রযুক্তিগত কাঠামো শক্তিশালী করতে হবে।” তিনি জানান, বিএসইসি সম্প্রতি আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন এসবিআরএম ফরম্যাট চালু করেছে, যা গবেষণা ও নজরদারি সহজ করবে।
তিনি আরও বলেন, “বাজারের আকার সংকুচিত হচ্ছে, যা উদ্বেগজনক। এখন যৌথভাবে দায়িত্ব নিয়ে ইকোসিস্টেম পুনর্গঠন করতে হবে।”
সমাপনী বক্তব্যে ডিএসই’র পরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) মো. কামরুজ্জামান, পিএইচডি বলেন, “প্রযুক্তিতে আত্মনির্ভরতা অর্জন করতে হবে। নিজেদের তৈরি প্রযুক্তি ব্যবহারে দক্ষতা বাড়াতে হবে এবং নতুন প্রজন্মকে সম্পৃক্ত করতে হবে।”
বিশ্ব বিনিয়োগকারী সপ্তাহ-২০২৫-এ IOSCO যে বার্তাগুলো দিয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে— বিনিয়োগের আগে যথাযথ যাচাই, স্বাধীন গবেষণা, ডিজিটাল টুল ব্যবহারে সতর্কতা এবং বিভ্রান্তিমূলক তথ্য থেকে দূরে থাকা। সেমিনারে এসব বার্তা বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়।
সার্বিকভাবে, সেমিনারটি বিনিয়োগকারীদের প্রযুক্তিনির্ভর ও তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে উৎসাহিত করেছে এবং পুঁজিবাজারের উন্নয়নে সমন্বিত প্রচেষ্টার আহ্বান জানিয়েছে।