একমি পেস্টিসাইডসের আইপিও তহবিল ব্যবহারের সময় বাড়ানোর আবেদন বাতিল

নিজস্ব প্রতিবেদক: শেয়ারবাজারে ওষুধ ও রসায়ন খাতে তালিকাভুক্ত একমি পেস্টিসাইডস লিমিটেডের প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) থেকে সংগ্রহ করা অর্থ ব্যবহারের সময়সীমা বাড়ানোর আবেদন নাকচ করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

সম্প্রতি কোম্পানিটির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে বিএসইসি এ সিদ্ধান্তের কথা জানায়। নির্ধারিত শর্ত পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় আবেদনটি প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। এতে কোম্পানির তহবিল ব্যবস্থাপনা ও আর্থিক স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

বিএসইসির চিঠিতে বলা হয়, ২০২১ সালের ৭ সেপ্টেম্বর দেওয়া আইপিও সম্মতিপত্রের ‘পার্ট-সি’ এর ৬ নম্বর শর্ত ভঙ্গ করেছে একমি পেস্টিসাইডস। এই শর্ত লঙ্ঘনের কারণেই তহবিল ব্যবহারের সময় বাড়ানোর আবেদন গ্রহণযোগ্য হয়নি।

এছাড়া, ২০২৪ সালের ১৫ এপ্রিল জারি করা কমিশনের পূর্ববর্তী নির্দেশনাও এখনও বহাল রয়েছে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে ওই নির্দেশনার আলোকে আইপিও তহবিল ব্যবহারের বিষয়গুলো সমন্বয় করতে হবে কোম্পানিকে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, অব্যবহৃত আইপিও তহবিল ব্যবহারের জন্য একাধিকবার সময় বাড়ানোর আবেদন করেছিল কোম্পানিটি। তবে প্রয়োজনীয় নথিপত্র ও শর্ত পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় প্রতিবারই তারা বাধার মুখে পড়ে।

এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ

এই শর্ত ভঙ্গের ঘটনায় আইপিও তহবিল ব্যবহারের অগ্রগতি ও কার্যক্রম নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। একইসঙ্গে বিএসইসির এই সিদ্ধান্ত বাজারে একটি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে—আইপিও অর্থ ব্যবহারে কোনো ধরনের অনিয়ম বা শিথিলতা সহ্য করা হবে না।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, আইপিও থেকে উত্তোলিত অর্থ নির্ধারিত খাতে ও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ব্যবহার করা বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষার জন্য অত্যন্ত জরুরি। এ ক্ষেত্রে ব্যত্যয় ঘটলে বিনিয়োগকারীদের আস্থা কমে যেতে পারে। একমি পেস্টিসাইডসের বিরুদ্ধে আগে থেকেই তহবিল ব্যবহারে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।

২০২১ সালে প্রায় ৩০ কোটি টাকা সংগ্রহের সময় কোম্পানিটি যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তার উল্লেখযোগ্য অংশ এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। বিশেষ করে ব্যাংক ঋণ পরিশোধ ও নতুন যন্ত্রপাতি ক্রয়ের ক্ষেত্রে ধীরগতি এবং স্বচ্ছতার অভাব নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে কঠোর অবস্থান নিতে বাধ্য করেছে।

আইপিও শর্ত অনুযায়ী, অর্থ হাতে পাওয়ার দুই মাসের মধ্যেই ব্যাংক ঋণ পরিশোধের কথা ছিল। কিন্তু প্রায় সাড়ে চার বছর পার হলেও কোম্পানিটি তা করতে পারেনি। ২০২৫ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত অর্থবছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনে নিরীক্ষক আশরাফ উদ্দিন অ্যান্ড কোং, চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস এ বিষয়টি তুলে ধরেছে।

বিএসইসি জানিয়েছে, শেয়ারবাজারে সুশাসন ও স্বচ্ছতা বজায় রাখতে কোনো ধরনের শর্ত ভঙ্গ বরদাশত করা হবে না। একমি পেস্টিসাইডসের ক্ষেত্রে আইন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

আরো