বাতিল হচ্ছে সিএপিএম অ্যাডভাইজরির নিবন্ধন
আর্থিক প্রতিষ্ঠান সিভিসি ফাইন্যান্সের মালিকানাধীন শেয়ারবাজারের সদস্যভুক্ত মার্চেন্ট ব্যাংক সিএপিএম অ্যাডভাইজরির নিবন্ধন বাতিলের কার্যক্রম শুরু করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। তালিকাভুক্ত কোম্পানি রিং সাইন টেক্সটাইলের প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) প্রসপেক্টাসে ভুয়া ও বিভ্রান্তিকর তথ্য দেওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে কমিশন। এরই ধারাবাহিকতায় প্রতিষ্ঠানটির বিনিয়োগকারীদের বেনিফিশিয়ারি ওনার্স (বিও) হিসাবে থাকা শেয়ার অন্য হিসাবে স্থানান্তরের জন্য সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেডকে (সিডিবিএল) প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে দেওয়া হয়েছে নির্দেশনা।
এর আগে একই অভিযোগে গত বছরের ১০ জুলাই সিএপিএম অ্যাডভাইজরির ব্যবস্থাপনা পরিচালক তানিয়া শারমিনকে শেয়ারবাজারে পাঁচ বছরের জন্য নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল কমিশন।
বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আবুল কালাম জানিয়েছেন, সিএপিএম অ্যাডভাইজরির নিবন্ধন সনদ বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হওয়ায় এবং কার্যক্রম পরিচালনার সক্ষমতা না থাকায় মার্চেন্ট ব্যাংকটির নিবন্ধন সনদ বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন।
তথ্য বলছে, সিএপিএম অ্যাডভাইজরি ও রিং সাইনের যৌথভাবে প্রস্তুত করা আইপিও প্রসপেক্টাসে ভুয়া তথ্য দেওয়ার বিষয়টি তদন্ত কমিটি ও বিশেষ তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে সিকিউরিটিজ আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে একাধিক শুনানি শেষে গত ৫ মে অনুষ্ঠিত কমিশন সভায় নিবন্ধন সনদ বাতিলের কার্যক্রম শুরুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটির ১৬৯ জন সক্রিয় গ্রাহকের বিও হিসাবে থাকা সিকিউরিটিজ ৩০ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট লিংক বিও হিসাবে স্থানান্তরের জন্য সিডিবিএলকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গ্রাহকদের স্বার্থ সুরক্ষায় গত ৫ এপ্রিল সিডিবিএলের কাছ থেকে এই সক্রিয় গ্রাহকদের তালিকা সংগ্রহ করেছিল কমিশন। পুরো প্রক্রিয়ায় সার্বিক সহযোগিতা করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সিএপিএম অ্যাডভাইজরিকেও।
বিএসইসি মনে করে, প্রসপেক্টাসে ভুয়া ও বিভ্রান্তিকর তথ্য দেওয়ার এই ঘটনা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (পাবলিক ইস্যু) বিধিমালা, ২০১৫ এবং সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অর্ডিন্যান্স, ১৯৬৯-এর ধারা ২২ অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ। সিডিবিএলকে পাঠানো বিএসইসির চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, তদন্ত প্রতিবেদন, এনফোর্সমেন্ট বিভাগের শুনানি, কারণ দর্শানোর নোটিসের জবাব এবং কমিশনের বিভিন্ন সভার সিদ্ধান্ত পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করেই নেওয়া হয়েছে এই চূড়ান্ত পদক্ষেপ।
অন্য এক চিঠিতে বিএসইসি জানিয়েছে, গত বছরের ১ জুলাই কমিশন সিএপিএম অ্যাডভাইজরির মার্চেন্ট ব্যাংকার নিবন্ধন সনদ বাতিলের প্রক্রিয়া শুরুর সিদ্ধান্ত নেয়। পরে বিষয়টি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে এবং গ্রাহকদের স্বার্থ সুরক্ষার লক্ষ্যে কমিশন গত ৫ এপ্রিল সিডিবিএলের কাছ থেকে সক্রিয় গ্রাহকদের তালিকা সংগ্রহ করে। তালিকা বিশ্লেষণে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানটির সক্রিয় গ্রাহকের সংখ্যা ১৬৯ জন। এরপর গত ৫ মে অনুষ্ঠিত কমিশনের সভায় প্রতিষ্ঠানটির মার্চেন্ট ব্যাংকার নিবন্ধন সনদ বাতিলের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়। সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের আগে গ্রাহকদের বিষয়টি অবহিত করা এবং তাদের বিও হিসাবের সিকিউরিটিজ ৩০ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট লিংক স্থানান্তর নিশ্চিত করে কমিশনে প্রতিবেদন জমা দিতে সিডিবিএলকে নির্দেশ দিয়েছে বিএসইসি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আল-আমিন বলেছেন, সিএপিএম অ্যাডভাইজরির সনদ বাতিল করেই দায়িত্ব শেষ হবে না। ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম পুরোপুরি রোধ করতে হলে শুধু লাইসেন্স বাতিল নয়, বরং জড়িতদের বিরুদ্ধে নিতে হবে ফৌজদারি ব্যবস্থা।